তৃণমূল আমলে বাংলা দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছিল: মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

Photo: SNS

রাজ্যের পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মুখোমুখি দৈনিক স্টেটসম্যান। দৈনিক স্টেটসম্যানকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার।

 

সাধারণ মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে বাংলায় সরকার গড়েছে বিজেপি। ৯ মে অর্থাৎ রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনিয়া। ব্রিগেড ময়দানে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা। সেই সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যের পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন এবং প্রাণীসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া পালন করছেন দিলীপ ঘোষক। দৈনিক স্টেটসম্যানের মুখোমুখি হয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী।


বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মুখোমুখি হন দৈনিক স্টেটসম্যানের প্রতিনিধি। বাংলার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন  করা হলে তিনি বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা একদম শেষ হয়ে গিয়েছে। বাংলা দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছে বলেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। নাম না নিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে নিশানা করেন মন্ত্রী। তৃণমূলের দুর্নীতির কারণে রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করা সম্ভব হয়নি বলেও আমাদের প্রতিনিধিদের জানান তিনি।

তৃণমূল সরকারের আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেন। একশো দিনের কাজে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই বঞ্চনাকে  হাতিয়ার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়  দিল্লিতেও ধরনা দেন। আজ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ পাল্টা তৃণমূল আমলের দুর্নীতি নিয়ে সরব হন। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি দুর্নীতির জন্য চালু করা যায়নি বলে জানান। সেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি চালু করার ব্যাপারে এবার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও এদিন তিনি দৈনিক স্টেটসম্যানকে বলেন।  ১০০ দিনের কাজ থেকে আবাস যোজনা, সড়ক যোজনা, শৌচালয় তৈরি সব জনহিতকারী প্রকল্প খুব তাড়াতাড়ি চালু হতে চলেছে বলে এদিন জানান রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>🎥 | Central Government schemes will be implemented soon in Bengal: BJP MLA Dillip Ghosh to The Statesman.<a href=”https://x.com/DilipGhoshBJP?ref_src=twsrc%5Etfw”>@DilipGhoshBJP</a> | <a href=”https://x.com/BJP4Bengal?ref_src=twsrc%5Etfw”>@BJP4Bengal</a> | <a href=”https://x.com/BJP4India?ref_src=twsrc%5Etfw”>@BJP4India</a> | <a href=”https://x.com/hashtag/DilipGosh?src=hash&amp;ref_src=twsrc%5Etfw”>#DilipGosh</a> <a href=”https://x.com/hashtag/WestBengal?src=hash&amp;ref_src=twsrc%5Etfw”>#WestBengal</a> <a href=”https://x.com/hashtag/BengalPolitics?src=hash&amp;ref_src=twsrc%5Etfw”>#BengalPolitics</a> <a href=”https://x.com/hashtag/TheStatesman?src=hash&amp;ref_src=twsrc%5Etfw”>#TheStatesman</a> <a href=”https://t.co/1tq7AThey8″>pic.twitter.com/1tq7AThey8</a></p>&mdash; The Statesman (@TheStatesmanLtd) <a href=”https://x.com/TheStatesmanLtd/status/2062447432118813065?ref_src=twsrc%5Etfw”>June 4, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি চালু করার লক্ষ্যে এদিন ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক হয়। বৈঠকে বিডিও ও বিধায়করা ছিলেন। এমন কী ডিএমদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে বলে তিনি জানান। খুব তাড়াতাড়ি রাজ্যে প্রকল্পগুলি চালু হবে এবং সাধারণ মানুষ তার সুফল পাবেন বলে আশাবাদী মন্ত্রী।

গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যে বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। সই জাল কাণ্ডের জেরে তৃণমূল দল আড়াআড়ি ভাবে দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে। উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা সই জাল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশ করেন বলে জানান খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নবান্নের এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একথা জানান। তারপরেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কৃত করা হয়।

এরপর গতকাল ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নেওয়া চিঠি বিধানসভায় গিয়ে জমা দেন তাঁরা। স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন এবং বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর খুলে দেওয়া হয়। সাংবাদিক বৈঠক থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন তাঁদের কাছে রয়েছে। সুতরাং তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হিসেবে অনুরোধ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলকে নিয়ে দিলীপ ঘোষের কাছে প্রশ্ন করা হলে, তিনি এ প্রশ্ন এক প্রকার এড়িয়ে যান। তারপর তিনি কটাক্ষ করে বলেন, তৃণমূল নিয়ে কিছু বলার নেই। এখন শুধু দেখার। তৃণমূল দলের ভাঙন এবং পরবর্তী পর্যায়ে আর কী কী বিপর্যয় হতে চলেছে, সেদিকেই দিলীপ ঘোষ ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।