অসমের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চলা মামলায় নতুন করে আলোচনায় এল অভিযুক্তের পরিবারের বক্তব্য। চলতি বিচারপর্বের মধ্যেই এক অভিযুক্তের স্ত্রী দাবি করলেন, তাঁর স্বামী সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং ভুলভাবে এই মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শ্যামকানু মহন্তের স্ত্রী অনিতা ডেকা বুধবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত সাত মাস ধরে তাঁর স্বামী জেলে রয়েছেন কোনও অপরাধ না করেও। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ। কোনও দোষ না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এতদিন জেলে থাকতে হচ্ছে। আমরা আদালতের উপর আস্থা রাখছি, সত্য সামনে আসবেই।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় এক নির্দোষ মানুষকে অকারণে ভুগতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবিও জানান তিনি। অনিতা বলেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে উত্তর-পূর্ব ভারতের সংস্কৃতি তুলে ধরতে কাজ করেছেন এবং রাজ্যের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে এক সমুদ্রভ্রমণের সময় জুবিন গার্গের মৃত্যু হয়। তিনি সেখানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। এই মৃত্যুকে ঘিরেই শুরু হয় তদন্ত, যা এখনও বিচারাধীন। অসম পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল এই ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে গুয়াহাটির আদালতে বিশদ চার্জশিট জমা দেয়। হাজার হাজার পাতার এই চার্জশিটে সাত জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চার জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন অনুষ্ঠানের আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, গার্গের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ব্যান্ডের সদস্য শেখরজ্যোতি গোস্বামী এবং সহগায়িকা অমৃতপ্রভা মহন্ত। এছাড়াও গার্গের এক আত্মীয় সন্দীপন গার্গের বিরুদ্ধে খুন না হলেও দায়ী থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ৩০০-রও বেশি সাক্ষীর বয়ান, নথিপত্র এবং ফরেনসিক তথ্যের ভিত্তিতে এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুরের আদালত সম্প্রতি জানিয়ে দিয়েছে, জুবিন গার্গের মৃত্যুর পিছনে কোনও অসৎ উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি। তাদের মতে, সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার ফলেই এই মৃত্যু হয়েছে।