নিট কেলেঙ্কারির পর মর্মান্তিক ঘটনা, রাজস্থানের সিকরে তরুণের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল প্রায় হাতের মুঠোয়। দরিদ্র দিনমজুর বাবার বহু বছরের ত্যাগস্বীকার, জমি বিক্রি করে ছেলের কোচিংয়ের খরচ জোগানো— সবই শেষ হয়ে গেল একটি ওড়নার ফাঁসে। নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তার জেরে পরীক্ষা বাতিলের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে রাজস্থানের সিকরে আত্মঘাতী হয়েছেন ২২ বছরের পরীক্ষার্থী প্রদীপ মেঘওয়াল। প্রশ্ন উঠছে, দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং পড়ুয়াদের উপর অসহনীয় মানসিক চাপ নিয়ে।

পুলিশ সূত্রে খবর, রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার বাসিন্দা প্রদীপ গত ৩ বছর ধরে সিকরে থেকে নিটের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর দুই বোনও সেখানে কোচিং করতেন। তিন ভাইবোন একসঙ্গেই একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। শুক্রবার সেই বাড়িতেই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না জড়িয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় প্রদীপের দেহ। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবারের দাবি, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অত্যন্ত ভাল ফলের আশা করেছিলেন প্রদীপ। বাড়িতে ফিরে জানিয়েছিলেন প্রায় ৬৫০ নম্বর পেতে পারেন তিনি। সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির স্বপ্নও দেখছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। পরে ১২ মে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করে এনটিএ। সেই ধাক্কাই তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয় বলে দাবি পরিবারের।


প্রদীপের বাবা রাজেশ কুমার মেঘওয়াল পেশায় দিনমজুর। তিনি বলেন, ‘ও খুব ভাল পরীক্ষা দিয়েছিল। বলেছিল এবার সরকারি মেডিক্যালে সুযোগ পাবেই। ভাবতেই পারছি না এমন সিদ্ধান্ত নেবে।’ ছেলের পড়াশোনার জন্য পরিবার প্রায় ১১ লক্ষ টাকা খরচ করেছিল বলেও জানান তিনি। জমি বিক্রি করে সেই টাকা জোগাড় করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাই তাঁদের ছেলেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ঘটনার সময় প্রদীপের এক বোন কোচিং ক্লাসে ছিলেন। অন্য বোন বাথরুম থেকে বেরিয়ে দাদাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন বাড়িওয়ালা ও প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা তথা রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট শোকপ্রকাশ করে বলেছেন, ঘনঘন প্রশ্নপত্র ফাঁস পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। তাঁর দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের জেরে চলতি বছরের নিট-ইউজি পরীক্ষা বাতিল করেছে এনটিএ। ২১ জুন ফের পরীক্ষা। তবে প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি।