যোগী এলেন না, উন্নাওয়ের নির্ভয়ার শেষকৃত্য কড়া পাহারায়

প্রতিকি ছবি (Photo: IANS)

পরিবারের দাবি ছিল মুখ্যমন্ত্রী যােগী আদিত্যনাথ না আসা পর্যন্ত শেষকৃত্য হবে না উন্নাওয়ের ধর্ষিতা তরুণীর। অবশেষে দীর্ঘক্ষণ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তার শেষকৃত্যে সম্মত হলেন পরিবারের সদস্যরা। রবিবার দুপুরে উন্নাওয়ের নির্যাতিতা এই ২৩ বছরের তরুণীর শেষকৃত্যে হাজির হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। ছিল বিশাল পুলিশি নিরাপত্তা।

রবিবার সকালে তরুণীর পরিবার থেকে দাবি করা হয়, আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যােগী আদিত্যনাথ এসে তাঁদের বাড়িতে দেখা করবেন। তারপর মৃত তরুণীর শেষকৃত্য হবে। তারপর প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার মুকেশ মেশরম পরিবারের লােকদের সঙ্গে কথা বলেন। অনেক বােঝানাের পর তাঁরা রাজি হন। দুপুরেই হয় শেষকৃত্য।

শুক্রবার আদিত্যনাথ দুই মন্ত্রীকে পাঠিয়েছিলেন নির্যাতিতার বাড়িতে। তারা গিয়ে কথা বলেছেন মৃতার পরিবারের সঙ্গে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে ওই পরিবারকে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যােজনায় তাদের দু’টি পাকা বাড়িও করে দেওয়া হবে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন।


তবে মৃতার বাবা জানিয়েছেন, তিনি লােভী নন। বাড়ি তিনি চান না। তিনি শুধু চান, তাঁর মেয়ের সঙ্গে যারা এমন করেছে, তাদের যেন ফাসি হয় নয়তাে হায়দরাবাদের মতাে গুলি করে মারা হয়। সরকার ও প্রশাসনের কাছে একই দাবি মৃতার দাদারও। তিনিও আজ জানিয়েছেন বােন তাঁর মৃত্যুশয্যায় শুয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধর্ষকদের ফাসি চেয়েছিল। বেঁচে থাকতে ও এই পাঁচজনের ফাঁসি দেখতে চেয়েছিল। ও তাে আর নেই তাই এই পঁচজনও বেঁচে থাকুক তা আমরা চাই না।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে আরও বলা হয়েছে, পরিবার তাঁদের কাছে জানিয়েছেন, তাঁদের এখনও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই ২৪ ঘণ্টা তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তরুণীর দাদাকে একটি লাইসেন্স যুক্ত বন্দুক রাখার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তরুণীর বােনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলেও সরকারের তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রায়বেরিলির আদালতে সাক্ষী দিতে যাচ্ছিলেন উন্নাওয়ের ধর্ষিতা তরুণী। সেই সময় তাঁর ওপর আক্রমণ করে অভিযুক্তরা। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে তরুণীর গ্রামেই ঘােরাফেরা করছিল তারা। সেদিন তরুণী ট্রেন ধরার জন্য রেলগেটের কাছে আসতেই তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পাশের ঝােপে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। প্রথমে কোপ মারা হয় তাঁকে, তারপর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়।

জ্বলন্ত অবস্থায় এক কিলােমিটার ছােটেন ওই তরুণী। স্থানীয় এক পথচারীর থেকে ফোন নিয়ে নিজেই খবর দেন পুলিশকে। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। ৯০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ভর্তি করানাে হয় লখনউয়ের হাসপাতালে। সেই অবস্থায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযুক্তদের নাম জানিয়ে জবানবন্দিও দেন তিনি। এরপর পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁকে এয়ারলিফট করে নিয়ে আসা হয় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে। পরদিন শুক্রবার রাত ১১:৪০ মিনিটে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। চিকিৎসকরা জানান, প্রথম থেকে ক্ষত বাড়ছিল তাঁর। তাঁকে বাঁচানাের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। শুক্রবার রাত ১১:২০ মিনিটে হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। এর মিনিট কুড়ির মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়।