সংসদে পেশ হল মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস বিল

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বিরোধীদের প্রত্যাশিত প্রতিবাদ ও হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় পেশ করা হল কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’— মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল। আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এই বিলটি পেশ করেন। একই সঙ্গে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার লক্ষ্যে আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিলও উপস্থাপিত হয়।

অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ এই বিল পেশের বিরোধিতা করে। কংগ্রেস সাংসদ কে সি ভেনুগোপাল বিল পেশের আগেই ভোটাভুটির দাবি জানান। প্রথমে স্পিকার এতে রাজি না হলেও, বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান ও প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটি হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, তাদের মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তবুও প্রতিবাদ থামেনি।

ভোটাভুটিতে সরকারপক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বিল পেশের পক্ষে ২০৭টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে ১২৬টি ভোট পড়ে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটিতে উভয় পক্ষের বহু সাংসদের অনুপস্থিতি চোখে পড়ে। এনডিএ-র অন্তত ৮৬ জন সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন, বিরোধী শিবিরেও সংখ্যাটা আরও বেশি। বিল পেশের অনুমতি পাওয়ার পর এখন লোকসভায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।


উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে একই ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল সংসদে পাশ হয়েছিল, যেখানে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়। তখন জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাসের শর্ত ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাসের কথা বলা হচ্ছে, যা নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি রয়েছে।

সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান হিসাবে এনডিএ-র ২৯৩টি আসন থাকলেও প্রয়োজনীয় ৩৬২ ভোটের তুলনায় তা কম। ফলে চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে সাংসদদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।