তৃতীয় সন্তান জন্ম নিলে একবছর মাতৃত্বকালীন ছুটি মিলবে, বড় ঘোষণা সরকারের

CM Thalapati Vijay Photo-ANI

এখন আর হাম দো হামারা দো নীতি না মানলেও চলবে। কারণ তৃতীয় সন্তান জন্ম নিলে একবছর মাতৃত্বকালীন ছুটি মিলবে। ইদানিংকালে দেখা গিয়েছে, ছোট পরিবারের দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। স্বামী, স্ত্রী এবং একটি সন্তান। আবার কোনও ক্ষেত্রে স্বামী, স্ত্রী এবং দুই সন্তান। তৃতীয় সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা খাকলেও অনেকে নিতে পারেন না। এবার সেসবে ছুটি কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। তৃতীয় সন্তান জন্ম নিলে টানা একবছর ছুটি মিলবে। এই বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে তামিলনাড়ু সরকার।

তামিলনাড়ুর মহিলা সরকারি কর্মচারীরা এই ৩৬৫টি দিনের ছুটি পাবেন বলে ঘোষণা করেছেন থলপতি বিজয়ের সরকার। তামিলনাড়ুর মহিলা সরকারি কর্মীরা এই খবর শুনে অত্যন্ত আপ্লুত। কারণ বহু মহিলার স্বামী আছেন যাঁরা তৃতীয় সন্তানের পক্ষে আগ্রহী। কিন্তু সময়ের জন্য তা থেকে পিছিয়ে আসেন তাঁরা। এবার আর সময় বাধা হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তামিলনাড়ুর থলপতি বিজয়ের সরকার ঘোষণা করেছে, এখন থেকে তৃতীয় সন্তানের জন্মালেও একবছর মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন মহিলা সরকারি কর্মচারীরা। আগে প্রথম এবং দ্বিতীয় সন্তানের জন্মানোর ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়া হতো। এবার তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও সেটা প্রযোজ্য হবে বলে বড় ঘোষণা করা হয়েছে।

তামিলনাড়ুতে থলপতি বিজয়ের সরকার গঠনের পর থেকেই নানা সুবিধা পেতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারীরা। তামিলনাড়ুতে বিধায়করা অফিস চালানোর ক্ষেত্রে গাড়ি-সহ ১ লক্ষ টাকা ভাতা পান। সেটা অনেক রাজ্যেই মেলে না। এবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ডি শরৎকুমার ঘোষণা করেন, ‘তামিলনাড়ু সরকার জনকল্যাণমুখী সরকার। আমরা সমাজকল্যাণ ও নারী ক্ষমতায়ণকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। তাই মহিলা সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলে মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ৩৬৫ দিন করা হচ্ছে।’


তাছাড়া আগের নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় সন্তান জন্মানোর ক্ষেত্রে এই ছুটি কমিয়ে করা হয়েছিল ১২ সপ্তাহ। এবার সেই নিয়মে বদল আনা হচ্ছে। সুতরাং মহিলা সরকারি কর্মচারীরা একবছর ছুটিতে থাকতে পারবেন। এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হলো যখন তামিলনাড়ুতে জন্ম হার কমে গিয়েছে। জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্টে রীতিমতো দাবি করা হয়েছে, তামিলনাড়ুর মোট জন্মের হার কমে ১.৪ থেকে নিচে নেমে গিয়েছে। যা প্রয়োজনীয় ২.১ হারের তুলনায় অনেকটাই কম। সুতরাং এই সিদ্ধান্তকে সরকারি কর্মচারীরা স্বাগত জানিয়েছেন।