‘নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়নই বিকশিত ভারতের ভিত্তি’, নীতি আয়োগের বৈঠকে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়নকে অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের একাদশ বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ভারতের জনমিতিক সুবিধা বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। এই সুযোগ কোনওভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়। তিনি জানান, কর্মক্ষম যুবশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভারত আগামী দশকগুলিতে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রফতানি বৃদ্ধি এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সহযোগিতা, আলোচনা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।


বৈঠকে সদ্য শপথ নেওয়া চার মুখ্যমন্ত্রী— ডি কে শিবকুমার, জোসেফ বিজয়, শুভেন্দু অধিকারী এবং ভিডি সাথীসন উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনিক প্রধানদের সঙ্গে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের আগে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “সমবায়ী যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার চেতনায় আমরা একসঙ্গে ভারতের উন্নয়নের যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বিকশিত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

এবারের গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকের মূল বিষয় ছিল ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন’। এই থিমের মূল লক্ষ্য হল দেশের প্রতিটি নাগরিকের উন্নয়ন নিশ্চিত করা, তিনি যে বয়স, অঞ্চল, লিঙ্গ বা আর্থ-সামাজিক পটভূমিরই হোন না কেন।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে এমন একটি রূপরেখা তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা উন্নয়নকে আরও কার্যকর এবং ফলপ্রসূ করে তুলবে। সুশাসন, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI), কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগকে উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়াও, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় মুখ্যসচিব সম্মেলনের সুপারিশগুলিও পর্যালোচনা করা হয়। সেই সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা, স্কুলশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা এবং ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যকলাপকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

বৈঠকে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।