ফের ওষুধ নিয়ে পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে বেশি অ্যালকোহলযুক্ত ওষুধ বিক্রিতে জারি করা হয়েছে কড়া নিয়ম। স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে প্রেসক্রিপশন ছাড়া বেশি অ্যালকোহলযুক্ত ওষুধ আর বিক্রি করা যাবে না। কতটা পরিমাণ অ্যালকোহল থাকলে তা প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যাবে তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ওষুধের খারাপ ব্যবহার রুখতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র।
জানানো হয়েছে ১২ শতাংশের বেশি ইথাইল অ্যালকোহল রয়েছে এমন ওষুধের ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশসন লাগবেই। না হলে তা কেনা যাবে না দোকান থেকে। এবার থেকে শুধুমাত্র ওষুধে এলাচ, আদা বা অন্যান্য মশলাজাতীয় উপাদান থাকার জন্য ছাড় মিলবে। সরকারি সূত্রের দাবি, এই ছাড়ের সুযোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অ্যালকোহলযুক্ত কিছু ওষুধ বিক্রি করা হয়েছিল। ফলে সেগুলি প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বাজারে সহজলভ্য ছিল। সেই কারণে অনেকসময় এই ওষুধের অপব্যবহার করা হত।
নতুন সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, যে ওষুধে ১২ শতাংশের বেশি ইথাইল অ্যালকোহল ও পরিমাণ ৩০ মিলিলিটারের বেশি সেই ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে পেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফার্মেসিগুলিকে এই ওষুধ বিক্রির বিস্তারিত রেকর্ডও সংরক্ষণ করতে হবে। অভিযোগ ওঠে, এই ধরনের ওষুধ নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। একাধিক রাজ্য সরকারও এই বিষয়ে কেন্দ্রকে জানিয়েছিল। তারপরই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, প্রকৃত চিকিৎসার প্রয়োজনে এই ধরনের ওষুধের প্রাপ্যতা বজায় থাকবে। তবে সেগুলির অপব্যবহার ও অবৈধ বিক্রি রুখতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। লাইসেন্স, প্রেসক্রিপশন এবং কড়া নজরদারির মাধ্যমে উৎপাদন থেকে খুচরো বিক্রি, পুরো ব্যবস্থাই নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, আয়ুর্বেদ ওষুধে সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ অ্যালকোহল রাখা যায়। হোমিওপ্যাথিক ওষুধে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ অ্যালকোহল ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সব ধরনের অ্যালকোহলযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ন্ত্রক কাঠামো কার্যকর করতে চায় কেন্দ্র।