জোট গঠনে ব্যর্থতা

দিল্লির আসনে বসবে কে?

লোকসভার ৫৪৩টি আসনে যখন নির্বাচন হচ্ছে তখন মাত্র ৭টি  আসনের ফলাফল নিশ্চয় সামগ্রিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড়রকম ছাপ ফেলবে না।কিন্তু এই ৭টি আসন যখন রাজধানীতে অবস্থিত তখন নিশ্চয় তার একটা বিশেষ মর্যাদা থাকে শুধু সংখ্যা দিয়ে তার গুরুত্ব বিচার চলে না।রাইসিনা হিলে যাওয়ার পথটা যেমন উত্তরপ্রদেশ হয়ে যায় বলে একটা ধারণা প্রচলিত আছে তেমনি দিল্লিও জাতীয় পছন্দের একটা নিখুঁত ব্যারােমিটার হিসাবে গণ্য হয়।সেই বিচারে বিজেপির -বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির (আপ)একটি অভিন্ন ফ্রন্ট গড়ে তােলার ব্যর্থতা এনডিএকে ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রতিদ্বন্দ্বিতার চাপে ফেলার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিরােধীদের ব্যর্থতাকেই সূচিত করছে,যদিও দুটি দলই স্বীকার করে।যে বিজেপিই তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ।উত্তরপ্রদেশ,বিহার,পশ্চিমবঙ্গ,অন্ধ্রপ্রদেশ ইত্যাদি রাজ্যে কংগ্রেস কোনও প্রকৃত শরিক পায়নি।ফলে এই জল্পনাও রয়েছে যে ২০১৪-এর রায় যদি নাটকীয়ভাবে উল্টেও যায় তবু বিকল্প জোটের নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিয়ে একটা জল্পনা রয়ে গিয়েছে।রাহুল গান্ধি ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা যদি মনে করে থাকে যে নেতৃত্ব তাদের হাতেই থাকবে তাহলে তারা কল্পলােকে বিচরণ করছেন।এক ধরনের ঔদ্ধত্যই তাদের স্বপ্নকে চুরমার করে দিতে পারে।

দিল্লিতে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শীলা দীক্ষিতকে পুনরায় ডেকে আনা বােধ হয় ভুল হয়েছে।তিন দফায় ক্ষমতায় থাকার পরে শীলা দীক্ষিতকে আপই ক্ষমতাচ্যুত করে।ফলে আসনের জন্য গোঁ ধরে থাকা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে মানিয়ে চলা তার পক্ষে খুবই কঠিন ছিল।আপের সঙ্গে আলােচনার জন্য আরেক প্রবীণ নেতা পি সি চাকোকে বেছে নেওয়া ভালাে ব্যাপারই বলতে হবে।কিন্তু কংগ্রেস যখন জোরাজুরি শুরু করে তখন তিনি নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে অসমর্থ হন।

এটা ভুলে গেলে চলবে না যে তিনটি মিউনিসিপ্যালিটির একটিও আপের নিয়ন্ত্রণে নেই।কেজরিওয়াল ও তার দলবলকে এটা বুঝতে হবে।হরিয়ানায় কংগ্রেস জোটকে সমর্থন জানানাের প্রশ্নে আপের ঔদ্ধত্যেরই পরিচায়ক,যে ঔদ্ধত্যের পরিচয় সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে রাহুল গান্ধিও দিয়েছেন।রাহুল গান্ধি এখনও কোনও উঁচু সরকারি পদে যাননি,কিন্তু তিনি ইতিমধ্যেই স্তাবক পরিবৃত হয়ে পড়েছেন।এটা সত্যি যে দিল্লির ৭টি আসনের একটি আসনেও বিজেপি তার একচেটিয়া অধিকার দাবি করতে পারে না,কিন্তু তাদের বর্তমান সাংসদরা যখন তাঁদের প্রমাণিত ব্যর্থতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পড়ে যান তখনই তাদের আসল পরীক্ষা শুরু।


রাহুল কি সত্যিই মনে করেন যে ব্যবহার হয়ে যাওয়া বুলেটের পর তিনি নতুন করে নিঃশ্বাস নেওয়ার শক্তি রাখেন?অনেক দিক থেকেই দিল্লির ৭টি আসনের ওজন অনেক বেশি।প্রথমবারের প্রার্থী গৌতম গম্ভীর কি মীনাক্ষী লেখর কাছ থেকে নয়াদিল্লি আসনটি ছিনিয়ে নিতে পারবেন?একজন বড় দিল্লিওয়ালা হিসাবে জে পি আগরওয়াল কি তাঁর স্থান বজায় রাখতে পারবেন? দিল্লি কিন্তু একটা উত্তেজনার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।