হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না, যদি না তার যথাযথ শংসাপত্র থাকে

প্রতীকী চিত্র

 দিল্লির দাঙ্গা মামলায় আদালত বলেছে, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না, যদি না তার যথাযথভাবে শংসাপত্র থাকে। ভারতীয় প্রমাণ আইন অনুযায়ী, কোনো হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য একটি নির্দিষ্ট শংসাপত্রের প্রয়োজন, যা এই ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। আদালত জানিয়েছে, এক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট মূল নথি বা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এগুলি খুব বেশি হলে অপরাধের সমর্থনে প্রাথমিক অপরাধ হয়ে থাকতে পারে বলে ধরে নেওয়ার প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করা যেতে পারে। দিল্লির কারকারদুমা ম্যাজেস্টেট আদালতের বিচারক পুলাসত্তা প্রেমকলা একটি মামলায় হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটকে প্রমাণ বা নথি হিসাবে মান্যতা দেওয়া নিয়ে দীর্ঘ মতামত দিয়েছেন। একটি খুনের মামলার আসামিকে সেই মতামতের ভিত্তিতেই নির্দোষ বলে সাব্যস্ত করেছেন তিনি।

বিস্তারিতভাবে আদালত উল্লেখ করেছে যে, কোনো হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য, সেই চ্যাটটি অবশ্যই ‘প্রমাণিত’ হতে হবে। এর অর্থ হল, চ্যাটটি মূল ডিভাইস থেকে পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং তা ধারা ৬৫ বি(৪) অনুযায়ী শংসাপত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। দিল্লির ওই আদালতে ২০২০-তে রাজধানীতে ঘটে যাওয়া দাঙ্গার সময়ে ৫টি খুনের মামলার বিচার চলছে। সেই দাঙ্গায় ৫৩ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। ৫টি হত্যা মামলার বিচারে বিচারক পুলিশের পেশ করা চার্জশিটে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের উল্লেখ সম্পর্কে বলেন কাউকে অপরাধী বা নির্দোষ সাব্যস্ত করতে এই ধরনের বার্তা মূল নথি বা প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ নিয়ে আদালতের এই বক্তব্য ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিম্ন আদালতের বিচারকের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ উচ্চ আদালতের আপিল করবে। আসামিদের মধ্যে ১২ জন আছেন যাদের নাম ৫টি মামলাতেই রয়েছে। ৫ জনের বিরুদ্ধেই পুলিশ দাঙ্গা এবং হত্যায় যুক্ত থাকার অভিযোগে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজকে হাতিয়ার করেছে। ‘কট্টর হিন্দু একতা’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মেসেজ পুলিশ চার্জশিটে উল্লেখ করেছে। সেখানে লোকেশ সোলাঙ্কি নামে এক ব্যক্তি অন্য একজনকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘তোমার ভাই পাঁচজন মুসলিমকে হত্যা করেছে।’ সোলাঙ্কিকে জেরা করে পুলিশ ২ জনকে গ্রেপ্তার করে যারা ৯ জনকে হত্যায় বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত। বিচারকের বক্তব্য, শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।


সাধারণভাবে যে কোনও ফৌজদারী এবং দেওয়ানী মামলায় হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাকে প্রমাণ হিসাবে হাজির করে পুলিশ-সহ নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। মামলাকারীরাও নিজেদের বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসাবে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পেশ করে থাকে। আইন ও বিচারমহলের একাংশের মতে, অভিযুক্তদের রক্ষা করতেই পুলিশ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটকে মূল নথি হিসাবে চার্জশিটে পেশ করে থাকতে পারে। কারণ, এগুলি যে আদালতে প্রধান এবং উপযুক্ত প্রমাণ হিসাবে গ্রাহ্য হবে না, পুলিশের তা অজানা থাকার কথা নয়।

দিল্লি হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছে যে, শংসাপত্র ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না, যেমন ডেল ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড বনাম আদিল ফিরোজ এবং ওরসের মামলায় দেখা গেছে। এই রায়ে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৮৭২ সালের ভারতীয় প্রমাণ আইনের ধারা ৬৫বি অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়, যদি না তার প্রামাণ্য শংসাপত্র থাকে।