প্রায় একমাসের টানটান প্রচারপর্ব শেষ। এবার ভোটের পালা। আজ বৃহস্পতিবার একদফায় কেরল, অসম ও পুদুচেরির মোট ২৯৬টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছে বলে জানিয়েছে। এই তিন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ১৮৪৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এদের মধ্যে কেরলে ১৪০টি, অসমে ১২৬টি এবং পুদুচেরিতে ৩০টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে।
কেরলে মূল লড়াই তিন শিবিরের মধ্যে—বামফ্রন্ট, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট। এই রাজ্যে প্রচারে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাহুল গান্ধী এবং মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। উন্নয়ন, কল্যাণমূলক প্রকল্প ও রাজনৈতিক মতাদর্শ—এই তিন ইস্যুকেই কেন্দ্র করে জমে উঠেছে লড়াই।
অসমে প্রচারের কেন্দ্রে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ। নির্বাচনকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধও দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্যে প্রায় ২.৫ কোটির বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
আজ পুদুচেরিতেও ৩০টি আসনে ভোট হবে। এখানে মোট ২৯৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রায় ৯.৫ লক্ষ ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, আজ থেকেই শুরু হচ্ছে দেশের বৃহত্তর নির্বাচনী পর্ব। আগামী ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুতে ভোট হবে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি বুথে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নজরদারি এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোট যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রশাসন সর্বতোভাবে প্রস্তুত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এই ভোটপর্ব দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ করবে। ফলে ৯ এপ্রিলের ভোটকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।