বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণের উদ্যোগ শুরু হয়েছে দেশে। এই উদ্যোগ বিহারে সম্পন্ন হয়েছে এবং দেশের ১২টি রাজ্যের ৫১ কোটি ভোটারকে নিয়ে সম্পন্ন হলে এটি নির্বাচন কমিশন এবং দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক কৃতিত্ব হবে। আইআইটি কানপুরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একথা বলেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
বিহারে এসআইআর সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর হবে। এর মধ্যে রয়েছে কেরালা, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং পশ্চিমবঙ্গও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেছেন, ‘যখন এই প্রক্রিয়াটি দেশের সর্বত্র সম্পন্ন হবে, তখন মানুষ শুধু নির্বাচন কমিশনের জন্যই গর্ববোধ করবেন না, বরং ভারতের গণতান্ত্রিক শক্তির জন্যও গর্ব করবেন।’
বিহার বিধানসভা ২৪৩ আসনে দুটি ধাপে- ৬ নভেম্বর এবং ১১ নভেম্বর ভোট গ্রহণ হবে, ফলাফল প্রকাশিত হবে ১৪ নভেম্বর। তার আগে সে দেশের ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ হয়েছে। এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় ৩০ লক্ষেরও বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এছাড়াও অনুপ্রবেশকারী হিসেবে যাঁদের চিহ্নিত করা হয়, অর্থাত বিহারের বাইরের যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছিল, তাঁদের নামও বাদ দেওয়া হয়েছে।
মু্খ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আইআইটি কানপুরের একজন প্রাক্তন ছাত্র। এদিন তিনি বলেন, ‘আইআইটি-কে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও অবিস্মরণীয় বছরগুলির মধ্যে একটি বলে মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ দেশের নোট এবং ভোট দুই জন আইআইটিয়ানের হাতে — আরবিআই গভর্নর এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
আমি যে মূল্যবোধগুলি এখানে (আইআইটিই-কানপুর) গ্রহণ করেছি সেগুলি আমার প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে আমাকে পথ দেখিয়েছে।’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দাবি, বিহার নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সরলীকরণের ক্ষেত্রে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে যা অন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলির জন্য একটি আদর্শ হয়ে উঠবে।