তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে রকেট গতিতে উত্থান হয়েছে টিভিকে প্রধান বিজয় থালাপতির। জনগণের আস্থা আগেই অর্জন করেছিলেন। বুধবার তামিলনাড়ুর বিধানসভায় আস্থাভোট হয়। মুখ্যমন্ত্রী তথা তামিলাগা ভেট্টিরি কাজাগাম (টিভিকে) নেতা বিজয় থালাপতির নেতৃত্বাধীন সরকার বিপুল সমর্থন নিয়ে বিধানসভায় আস্থা প্রমাণ করল। ভোটাভুটিতে তাঁর সরকারের পক্ষে সমর্থন পড়ে ১৪৪ জন বিধায়কের, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের থেকে অনেকটাই বেশি। ফলে বিজয় সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে আপাতত সব জল্পনার অবসান ঘটেছে।
টিভিকে-র শরিক দল কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের বিধায়কেরা প্রত্যাশিত ভাবেই সরকারের পাশে দাঁড়ান। তবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে এডিএমকে-র একাংশের অবস্থান। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এডিএমকে ভোটদানে বিরত থাকার কথা ঘোষণা করলেও, সন্মুগম ও এসপি ভেলিমনির নেতৃত্বে ২৫ জন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক বিজয়ের সরকারকে সমর্থন করেন। এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এর ফলে জয়ললিতার প্রতিষ্ঠিত দল এডিএমকে-র ভিতরে ভাঙনের সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
অন্য দিকে, এমকে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে-র ৫৯ জন বিধায়ক ভোটাভুটির আগেই বিধানসভা কক্ষ ত্যাগ করেন। আস্থাভোটে সরকারের বিপক্ষে ভোট দেন ২২ জন বিধায়ক এবং পাঁচ জন ভোটদানে বিরত থাকেন।আস্থাভোটে জয়লাভের পর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, ‘বাঁশি ইতিহাস বদলে দিল।‘ তিনি আরও জানান, তাঁর সরকার নিজেদের সংখ্যালঘু সরকার হিসেবেই দেখতে চায় এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। বিপুল সমর্থনের এই ফলাফল যে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সূচনা করল, তা বলাই যায়।