মহাশিবরাত্রির পবিত্র দিনে ভারত ও পাকিস্তানের উচ্চভোল্টেজ বিশ ওভারের ম্যাচ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হল। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-এর জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনসাল এই ম্যাচকে ‘রাম ও রাবণের যুদ্ধের মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের বার্তায় বিনোদ বনসাল পাকিস্তানকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘পাকিস্তান আবারও পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তাদের সব হুমকি, প্রতিবাদ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদের কাছে নানা চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তান দলকে আবারও ভারতের সামনে হারার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ মহাশিবরাত্রি। লঙ্কার সেই যুদ্ধক্ষেত্রের মতোই, যেখানে ভগবান শিবের ভক্ত শ্রীরাম অসুরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, আজ ক্রিকেটের ময়দানেও এক বড় লড়াই হতে চলেছে। আবার কি রাম–রাবণের যুদ্ধের মতো সংঘর্ষ দেখা যাবে?’
ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা চরমে
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব প্রায়ই ক্রিকেট মাঠেও দেখা যায়। এই ম্যাচের আগে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বয়কটের হুমকি, রাজনৈতিক চাপ এবং নানা আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত বজায় রাখা হয়েছে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচ শুধু একটি সাধারণ খেলা নয়, বরং দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আবেগ, মর্যাদা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতীক। মহাশিবরাত্রির দিনে এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বও বেড়ে গেছে।
দুই দলই জয়ের ধারায়, বাড়ছে উত্তেজনা
ভারতীয় দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সূর্যকুমার যাদব। অসুস্থতার কারণে আগের ম্যাচে অনুপস্থিত থাকার পর ওপেনার অভিষেক শর্মা আবার দলে ফিরেছেন। অন্যদিকে পাকিস্তান দলও নিজেদের গ্রুপের আগের ম্যাচগুলোতে জয় পেয়েছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে জয়ী দল শুধু প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে না, পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও বড় সুবিধা পাবে। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বরাবরই বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম আকর্ষণ, এবং এবারের ম্যাচও তার ব্যতিক্রম নয়।
ধর্মীয় দিন ও ক্রিকেট, আবেগের মেলবন্ধন
মহাশিবরাত্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবের দিনে এই ম্যাচ হওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে আবেগ আরও তীব্র হয়েছে। অনেকেই এই ম্যাচকে শুধুমাত্র খেলা নয়, বরং গৌরবের লড়াই হিসেবে দেখছেন।
তবে বনসালের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, ক্রিকেটকে ধর্ম বা রাজনৈতিক প্রতীকের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়, কারণ এটি একটি আন্তর্জাতিক খেলা যা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।