সবজি থালির খরচ স্থির, আমিষ থালি কিছুটা সস্তা, স্বস্তি সাধারণ মানুষের

দাম বাড়ার চাপে যখন সাধারণ মানুষের সংসার সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় কিছুটা স্বস্তির খবর মিলল রান্নাঘরের খরচ নিয়ে। মার্চ মাসে ঘরোয়া সবজি থালির খরচ মোটামুটি একই জায়গায় থাকলেও, আমিষ থালির খরচ সামান্য কমেছে বলে জানাল একটি সমীক্ষা।

সমীক্ষা অনুযায়ী, পেঁয়াজ, আলু ও ডালের দাম কম থাকায় সবজি থালির খরচ বাড়েনি। যদিও টমেটো, ভোজ্য তেল এবং রান্নার জ্বালানির দাম কিছুটা বেড়েছে, তবুও অন্যান্য উপকরণের দাম কম থাকায় সামগ্রিক খরচ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিশেষ করে টমেটোর দাম এক বছরে অনেকটাই বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে এই সবজি। উৎপাদন এলাকায় চারা রোপণে দেরি হওয়ায় ফলন কম হয়েছে এবং বাজারে সরবরাহও দেরিতে এসেছে, যার ফলে দাম বেড়েছে।


অন্যদিকে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো ছবি। বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ থাকায় এবং রপ্তানি কম থাকায় দাম অনেকটাই কমেছে। একইভাবে আলুর চাহিদা কম থাকায় তার দামও নিম্নমুখী হয়েছে। ডালের ক্ষেত্রেও মজুত বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির।

আমিষ থালির ক্ষেত্রে খরচ কমার প্রধান কারণ মুরগির মাংসের দাম কমা। বাজারে মুরগির দামে প্রায় ২ শতাংশ পতন হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে থালির মোট খরচে।

তবে সবকিছুর মধ্যেও ভোজ্য তেলের দাম এবং রান্নার গ্যাসের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে বড়সড় স্বস্তি আসেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহে সমস্যা থাকায় তেলের দাম বাড়ছে। একইসঙ্গে রান্নার গ্যাসের দামও বেড়েছে, যা গৃহস্থের খরচে চাপ তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভোজ্য তেলের উপর। এই পরিস্থিতি আপাতত অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে তেলের দাম সহজে কমার সম্ভাবনা কম।

আগামী দিনে পেঁয়াজের দাম ধীরে ধীরে বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, কারণ উৎপাদন কিছুটা কমেছে এবং গ্রীষ্মকালীন ফসলের ক্ষতির খবরও রয়েছে। তবে সরকারি সংস্থার হস্তক্ষেপ বা রপ্তানি বাড়লে বাজারে নতুন ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে মার্চ মাসে রান্নাঘরের খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, জ্বালানি ও তেলের দাম বাড়ায় পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না। তবুও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে বড়সড় ধাক্কা এড়ানো গিয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।