বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংযুক্তিকরণ কেন্দ্রের

নির্মলা সীতারমণ (File Photo: IANS)

অর্থনীতির স্বাস্থ্যভঙ্গ দেখে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা ঘােষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার, কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। শুক্রবার সরকারি তথ্য জানাচ্ছে, চলতি আর্থিক বছরে বিগত জুন মাসে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে আর্থিক বৃদ্ধির হার নেমে এল ৫ শতাংশে, যা গত ছ’বছরে সর্বনিম্ন।

কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৮ শতাংশ। গত আর্থিক বছরের (জানুয়ারি-মার্চ ২০১৯) শেষ ত্রৈমাসিকে আর্থিক বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছিল ৫.৮ শতাংশে। এবার তার চেয়েও কমল আর্থিক বৃদ্ধির হার। এরই মাঝে শুক্রবারই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘােষণা করলেন, বেশ কিছু ব্যাঙ্কের সংযুক্তিকরণের ফলে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংখ্যা ২৭ থেকে কমে হবে ১২। দশটি বড় রাষ্ট্রয়ত্ত ব্যাঙ্ক মিশে হয়ে যাচ্ছে চারটি।

এনডিএ সরকারের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে পাঁচ কোটি ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে দেশের অর্থিক ব্যবস্থাকে উত্তরণের ঘােষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তির কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং অর্থপ্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর যৌথভাবে এই সংযুক্তির কথা জানিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির অনাদায়ী অর্থের পরিমাণ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে ৮.৬৫ লাখ কোটি টাকা থেকে কমে ৭.৯ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আর্থিক অবস্থা চাঙ্গা করতেই সরকারি ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তির প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে বলে তিনি জানান। 


স্টেট ব্যাঙ্গ অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে ব্যাঙ্কের সংযুক্তির পর এবার পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, অরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অব কমার্স এবং ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়র সংযুক্তির ফলে সংযুক্ত ব্যবসার পরিমাণ দাঁড়াল ১৭.৯৫ লাখ কোটি টাকা এবং সংযুক্তভাবে শাখার সংখ্যা দাঁড়াল এগারাে হাজার চারশাে সাঁইত্রিশ। এছাড়া, কানাড়া ব্যাঙ্কের সঙ্গে সিন্ডিকেট ব্যাঙ্কের সংযুক্তিতে মােট ১৫.২০ লাখ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের সঙ্গে অন্ধ্র ব্যাঙ্ক এবং কপোরেশন ব্যাঙ্কের সংযুক্তি এবং ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের সঙ্গে এলাহাবাদ ব্যাঙ্কের সংযুক্তিতে ৮.০৮ লাখ কোটি টাকার ব্যবসা ও পরিচালনার কথা জানিয়েছেন।

এছাড়া, ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া ও সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডািয় সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক হিসেবে, আঞ্চলিক ক্ষেত্রে দক্ষিণে ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক, পূর্বে ইউকো ব্যাঙ্ক এবং উত্তরে পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক তাদের কাজ অব্যাহত রাখবে।

ভারত বর্তমানে ২.৬৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক ব্যবস্থায় নিম্নগতি বজায় রেখেছে। একারণে সরকারের পক্ষে ব্যাঙ্কগুলিকে অক্সিজেন হিসেবে নতুন করে মূলধন দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কগুলি যাতে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে নির্ভয় হতে পারে তার জন্য উপযুক্ত নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাঙ্কের পরিচালন ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের আর্থিক ব্যবস্থা দৃঢ় করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

কী পাল্টাবে

কী পাল্টাবে না