বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হতেই ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দেন। তার মধ্যে আছেন তৃণমূলের সাংসদ তথা ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। তাঁকে জমি জটিলতায় পড়তে হয়েছিল। নানা টানাপোড়েন সহ্য করতে হচ্ছিল। কিন্তু বহরমপুরের সাংসদ বিদ্রোহী হয়ে এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়ার পর সেই জমি জটিলতা এবং টানাপোড়েন কেটে গেল। কাকতালীয় বিষয়, ইউসুফ পাঠানের ওই জমি জটিলতা কেটে গিয়ে গুজরাতের স্থানীয় পুরপ্রশাসন সেটা এখন তাঁকেই দিয়ে দিল। যার নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বিজেপির হাতে ছিল। তার ফলে বাড়ি লাগোয়া বিতর্কিত জমি ‘উপহার’ হিসেবে পেলেন এনসিপিআই সাংসদ ইউসুফ পাঠান।
এদিকে গুজরাতের ভদোদরার বাড়ি লাগোয়া ৯৭৮ স্কোয়্যার মিটার জমির অর্ধেকেরও বেশি ইউসুফকে উপহার হিসেবে দিচ্ছে গুজরাতের বিজেপি সরকার। আর বাকি ৪৭৮ স্কোয়্যার মিটার জমি এখন বাজারদরের ৫৫ শতাংশ টাকায় কিনছেন তিনি। আর আগে ভদোদরা পুরসভার অধিকৃত ওই ৯৭৮ স্কোয়ার মিটার জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছিল ইউসুফ পাঠানের বিরুদ্ধে। পুরসভার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, ওই জমিতে দেওয়াল তুলে সংশ্লিষ্ট জায়গা নিজের সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছিলেন তিনি। যা বেআইনি। সেটাই এখন সহজে পেতে চলেছেন তিনি বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে ২০১২ সালে ইউসুফ পাঠান যখন ব্যাট হাতে চরম ফর্মে তখন এই জমি পাওয়ার জন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলেন। ওই বছরই মার্চ এবং জুন মাসে প্রশাসনের সঙ্গে পাঠান পরিবারের জোড়া বৈঠকের পরে ঠিক হয়, ৯৯ বছরের সত্ত্বে জমিটি বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় ক্রিকেটারকে দেওয়া হবে। ২০১২ সালে ইউসুফ পাঠানকে একটি প্রস্তাব দেন পুরসভা কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, জমিটি কিনে নিন প্রাক্তন ক্রিকেটার। তার জন্য নিলাম করা হবে না। প্রতি বর্গমিটারে ৫৭ হাজার ২৭০ টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুরসভার ওই অনুমোদন ২০১৪ সালে বাতিল করে দেয় গুজরাত সরকার। বরং ওই জমি বেআইনিভাবে দখন করে রাখার অভিযোগ তোলা হয়েছিল বিজেপির পক্ষ থেকে। তৎকালীন বিজেপি কাউন্সিলর বিজয় পাওয়ার এই অভিযোগ করেছিলেন।
তাছাড়া ২০২৪ সালে ইউসুফ পাঠান তৃণমূলের সাংসদ হওয়ার পরে ওই টানাপোড়েন এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, মামলা গড়ায় আদালতে। আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পাঠান বলতে বাধ্য হন, তিনি ওই জমির মায়া ত্যাগ করছেন। সোমবার ভদোদরা পুরসভার কমিশনার অরুণ মহেশ বাবু জানান, বাড়ি লাগোয়া ওই জমিটি চেয়েছিলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার। কদিন আগে সরকার তাঁর আবেদনে সিলমোহর দিয়েছে। যদিও জমিটি কীভাবে ইউসুফ পাঠানকে হস্তান্তর করা হবে সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পুরসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং সাধারণ সভার বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে। পুরসভার কমিশনার অরুণ বাবু সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘পুরসভার দিক থেকে জমি সংক্রান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এবার আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়ার পালা।’