অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে নিষিদ্ধ বহুবিবাহ, লিভ ইনে বাধ্যতামূলক ঘোষণা

দেহরাদুর, ৩ ফেব্রুয়ারি– বহুবিবাহ থেকে উত্তরাধিকারে অধিকার, লিভ ইন সবকিছুর জন্যই কড়া আইনের গন্ডি মেপে দিল উত্তররাখণ্ডের চালু হতে চলা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি৷ ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামিকে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করেছে নিযুক্ত কমিটি৷ সূত্রের খবর, উত্তরাখণ্ডে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি খসড়া তৈরি করে ফেলেছে কমিটি৷ সেখানে যেমন নিষিদ্ধ হয়েছে বহুবিবাহ তেমনই আবার  উত্তরাধিকারের সমান অধিকার এবং লিভ ইন রিলেশনশিপে থাকলে বাধ্যতামূলক ঘোষণার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জন প্রকাশ দেসাই৷ তিনি এই ইউসিসির খসড়া মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামিকে পাঠিয়েছেন৷

ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত উত্তরাখণ্ডে একটি বিধানসভা অধিবেশন বসবে৷ সেখানেই এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ ইউসিসি খসড়া হাতে পাওয়ার পর রাজ্য সরকার শনিবারের ক্যাবিনেট মিটিংয়ে তাতে সিলমোহর দিতে চলেছে বলে খবর৷ ৬ ফেব্রুয়ারি তা বিল আকারে বিধানসভায় পাশ হতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে৷

এই খসড়ায় বেধে দেওয়া হয়েছে ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়স৷ মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে তা করা হয়েছে ২১ বছর৷ সঙ্গে রয়েছে বিবাহ বিচ্ছেদের নিয়মও৷ স্ত্রী এবং স্বামীর সমান কারণ থাকা বাঞ্ছনীয়৷ ডিভোর্সের সমস্ত শর্ত দু’জনের উপরই সমানভাবে বহাল হবে৷ সব ধর্মের দম্পতির ‘কুলিং অফ’ পিরিয়ড সমান করা হবে৷ আপাতত হিন্দু দম্পতিদের ‘কুলিং অফ’ পিরিয়ডের মেয়াদ হল ছয় মাস৷ যদিও মুসলিমদের ক্ষেত্রে এই ‘কুলিং অফ’ পিরিয়ডে ছাড়া দেওয়া হয়েছে৷ খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রে তা দু’বছর৷ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়ে দাদু-ঠাকুমার সন্তানের দায়িত্ব নিতে পারবেন৷ বিয়ে করতে গেলে রেজিস্ট্রেশন মাস্ট৷ প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকতে দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব নয়৷ বহুবিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ৷ উত্তরাধিকারী হিসেবে ছেলের মতো সমান অধিকার থাকবে মেয়েরও৷লিভ ইন রিলেশনশিপে থাকতে গেলে তার ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক৷ সেল্ফ ডিকলারেশন করতে হবে যুগলদের৷ নিজেদের বর্তমান স্টেটাসের বিষয়ে ‘ঘোষণাপত্র’ প্রদান করতে পুলিশকে আইএসটি নাগরিকদের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির নিয়মাবলির আওতায় আনা হবে না৷ মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে থাকা ‘হালালা’ এবং ‘ইদ্দত’-র উপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপাতে হবে৷ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে৷
যে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃতু্য হবে এবং সেই পরিবারে কোনও অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান থাকলে বিশেষ তহবিল তৈরি করা হবে৷ যদি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী অসুস্থতার জন্য শয্যাশায়ী থাকেন, তাহলেও সেই তহবিল তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে৷