তাজমহলের সামনে মার্কিন সচবি রুবিয়ো, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক ও ইরান সঙ্কট নিয়ে মুখ খোলেন তিনি

তাজমহলের সামনে মার্কিন সচিব মার্কো রুবিয়ো ও তাঁর স্ত্রী

মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো এবং তাঁর স্ত্রী জেনেট ডি রুবিয়ো তাজমহল ঘুরে দেখলেন। সোমবার আগ্রা যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুবিয়ো, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক, পাকিস্তান, ইরান, হেজবোল্লাহ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রামের ভারত প্রেম নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে কোয়াডের বৈঠক হতে চলেছে। বৈঠকে ভারত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা এবং পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হবে। সেই বৈঠকের আগে সোমবার মার্কিন সচিবের আগ্রা সফল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এই সফরে স্ত্রী ছাড়াও তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সমাজ মাধ্যমে হওয়া বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা একদম আমল দেননি। তাঁর কথায়, ‘ মানুষ সমাজ মাধ্যমে মিডিয়ায় সব সময়ই নানা বোকামি করে। অনেক সময় বোঝাই যায় না, এই অ্যাকাউন্টগুলির পিছনে আসলে কারা রয়েছে।‘


তিনি বলেন, ‘ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতকে খুব ভালোবাসেন। তিনি প্রধানমন্তরী নরেন্দ্র মোদীর বড় ভক্ত।‘ মার্কিন সচিব দাবি করেন, আমেরিকার কাছে ভারত খুবই গুরুত্বপূর্ণ দেশ। যদি তা না হত তাহলে ওয়াশিংটন কখনও এত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ভারতে পাঠাত না। রুবিয়ো স্বীকার করেন পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন নিয়ে ভারতের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে এমন সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন রয়েছে যারা ভারতের বিরুদ্ধে হামলা চালায়।‘

তবে ইরান ইস্যুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিক নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কোনও বিরোধ তৈরি হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। এদিন তাজমহল ঘুরে দেখে তিনি একে ‘বিশ্বের অন্যতম আশ্চর্য’ বলে উল্লেখ করেন। বিদেশ সফরে কোনও দেশের সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও ভারত সফলের সময় তাজমহল পরিদর্শন করেছিলেন।

এদিন ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকা আলোচনা চালিয়ে যেতে চান বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওয়াশিংটন কূটনীতিকে ‘সফল হওয়ার পূর্ণ সুযোগ’ দিতে চায়। রুবিয়োর স্পষ্ট বক্তব্য ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনও খারপা চুক্তি মেনে নেবেন না।‘ তবে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে অন্য উপায়ে পরিস্থিতি সামলাতে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

ভারত সফরের পরবর্তী পর্যায়ে রুবিয়ো জয়পুরে যাচ্ছেন। সেথানে তাঁর আজমের ফোর্ট ঘুরে দেখা কথা রয়েছে। রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী দিয়া কুমারী তাঁকে স্বাগত জানাবেন বলে জানা গিয়েছে। রুবিয়োর সফরকে কেন্দ্র করে জয়পুরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে নজরদারি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সৌন্দর্যায়নের কাজও জোরকদমে চলছে।