আমেরিকা হয়তো শুল্ক শিথিল করবে, আশার আলো দেখছেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘ট্রাম্প ট্যারিফ’-এর চাপ থেকে অবশেষে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে ভারতের কাছে। বৃহস্পতিবার সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন ইঙ্গিত দিলেন, নভেম্বরের শেষ নাগাদ আমেরিকা ভারতের রপ্তানিপণ্যের উপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তার পরেই কেন্দ্র আশাবাদী যে আমেরিকা শীঘ্রই ভারতের উপর আরোপিত শাস্তিমূলক শুল্ক শিথিল করবে।

নাগেশ্বরন বলেন, ‘ভারত থেকে আমেরিকায় রপ্তানির ক্ষেত্রে মোট ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ সাধারণ শুল্ক এবং বাকি ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক। ভূ-রাজনৈতিক কারণে এই বাড়তি শুল্ক চাপানো হয়েছিল। কিন্তু ৩০ নভেম্বরের পর পরিস্থিতি বদলাতে পারে। আলোচনা অনুযায়ী অতিরিক্ত শুল্ক তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।’


তিনি আরও জানান, ‘আগামী কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক সমস্যার সমাধান হতে পারে। এতে বাণিজ্যে গতি আসবে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।’

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়েও আত্মবিশ্বাসী। তাঁর দাবি, বর্তমানে ভারতের বার্ষিক রপ্তানি প্রায় ৮৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী কয়েক বছরে সেটি ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য স্থির করেছে সরকার। তাঁর কথায়, ‘এটি ভারতের শক্তিশালী এবং উন্মুক্ত অর্থনীতির প্রতিফলন।’

প্রসঙ্গত, আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’-এর (আইইইপিএ) আওতায় ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ সাধারণ শুল্কের পাশাপাশি বাড়তি ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক চাপানো হয়েছিল। ফলে প্রায় সমস্ত ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর বসেছিল মার্কিন বাজারে।

কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, যদি নভেম্বরের পর আমেরিকা শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে, তবে ভারতের রপ্তানি আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।