ইউপিআই লেনদেনে এখনও কোনও অতিরিক্ত ফি চালু হয়নি। অথচ তার আগেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় দোকান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এমনকি পেট্রল পাম্পেও দেখা যাচ্ছে ‘অনলাইন পেমেন্ট নয়, ক্যাশ দিন’ নোটিস। কোথাও আবার বলা হচ্ছে, ইউপিআইয়ে টাকা দিলে বাড়তি টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ যে ফি ব্যবসায়ীর দেওয়ার কথা, তা ক্রেতার ঘাড়ে চাপানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর থেকে ২ হাজার টাকা বা তার বেশি কিছু নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর কার্যকর হওয়ার কথা। এই টাকা ব্যবসায়ীকে দিতে হবে, গ্রাহককে নয়। অর্থাৎ ১০ হাজার টাকার ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর হবে ৪০ টাকা। জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা বা তার বেশি ইউপিআই পেমেন্টে ৫ টাকা নির্দিষ্ট এমডিআরের কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গাজিয়াবাদের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী অক্ষয় কুমার গুপ্তা যেমন ক্রেতাদের নগদে টাকা মেটাতে বলছেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁর দোকানে সাধারণত ২ হাজার টাকার বেশি লেনদেন হয়। তাই ইউপিআইয়ের খরচ তাঁরা কেন বহন করবেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই ভাবে এক বিউটি পার্লারের মালকিন শেহনাজও অতিরিক্ত খরচ ব্যবসায়ীদের উপর চাপানোর বিরোধিতা করেছেন।
শুধু বড় ব্যবসা নয়, ছোট দোকানগুলিতেও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। গাজিয়াবাদের মুদিখানা ব্যবসায়ী সঞ্জয় বিন্দালের বক্তব্য, সাধারণত ২ হাজার টাকার বেশি কেনাকাটা না হলেও এমন লেনদেন একেবারে অসম্ভব নয়। তাই বেশি দামের পণ্য কিনলে নগদে টাকা দিতে হতে পারে বলে ক্রেতাদের জানাচ্ছেন তিনি।
সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে পেট্রল পাম্পগুলিতে। মধ্যপ্রদেশের পেট্রল পাম্প ডিলাররা জানিয়েছেন, এমডিআর প্রত্যাহার না হলে ১৬ অক্টোবর থেকে ২ হাজার টাকার বেশি পেট্রল-ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে ইউপিআই পেমেন্ট নেওয়া বন্ধ করতে পারেন তাঁরা। মধ্যপ্রদেশ পেট্রল পাম্প ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজয় সিংয়ের দাবি, নতুন ব্যবস্থায় একটি পেট্রল পাম্পের মাসে প্রায় ১৭,৭০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। রাজ্যে প্রায় ৪,৭০০টি পেট্রল পাম্প রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের এই আপত্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স-ও। তাদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে নগদ ছাড়া লেনদেন বাড়াতে ইউপিআইকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এখন এমডিআর নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তির জেরে সেই ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ ক্রেতাদের উপরেও।