স্বাধীন ভারতের সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী রইল রাজধানী। দেশের প্রাচীনতম সংবাদ সংস্থাগুলির অন্যতম ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়া-র দপ্তরে শুক্রবার সন্ধ্যায় কোনও আগাম নোটিস ছাড়াই হঠাৎ অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ, জোর করে খালি করে দেওয়া হয় সংস্থার নিউজরুম।
সূত্রের খবর, অভিযানে বিপুল সংখ্যক দিল্লি পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। উপস্থিত আধিকারিকরা দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে কর্মীদের অভিযোগ, সেই সংক্রান্ত কোনও লিখিত নির্দেশ তাঁদের সামনে পেশ করা হয়নি।
জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০০ জন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য, সঙ্গে কিছু সরকারি আধিকারিক ও আইনজীবী নিয়ে ৯ রফি মার্গে অবস্থিত দপ্তরে প্রবেশ করেন। এরপরই কর্মীদের তড়িঘড়ি নিউজরুম খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্মীদের একাংশ সময় চেয়ে সংস্থার শীর্ষ কর্তৃপক্ষকে আসার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তা গ্রাহ্য করা হয়নি বলে অভিযোগ।
অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন কর্মী—যাঁদের মধ্যে মহিলা কর্মীরাও ছিলেন, তাঁদের জোর করে চেয়ার থেকে সরিয়ে নিউজরুমের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মৌখিক হেনস্থার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি। অভিযানের পর দপ্তরের মূল প্রবেশদ্বারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় পুলিশ। ফলে বাইরে থাকা সাংবাদিক বা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্তারা ভিতরে ঢুকতে পারেননি। অনেক কর্মী নিজেদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার পর একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন কোনও আগাম নোটিস ছাড়াই এই অভিযান চালানো হল? সংস্থার শীর্ষ কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতিতে এমন পদক্ষেপ কতটা আইনসঙ্গত? সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল। সাংবাদিক সংগঠনগুলি এই ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, দপ্তরের মালিকানা বা লিজ সংক্রান্ত কোনও বিরোধের জেরেই এই পদক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়া দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশের অন্যতম প্রধান সংবাদ সংস্থা হিসেবে কাজ করে আসছে। ইংরেজি, হিন্দি ও উর্দু—এই তিন ভাষায় পরিষেবা দিয়ে সারা দেশের অসংখ্য গ্রাহকদের কাছে সংবাদ সরবরাহ করে এই সংস্থা। হঠাৎ এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে সংস্থার সংবাদ পরিবেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।