দিল্লি দাঙ্গা মামলায় উমর খালিদের মামলার পুনর্বিবেচনা আর্জি

২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা সংক্রান্ত বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলায় ছাত্র-আন্দোলনকারী উমর খালিদের মামলার পুনর্বিবেচনার আর্জি নিয়ে নতুন মোড়। সুপ্রিম কোর্টে এই আর্জি খোলা আদালতে শুনানির দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি প্রসন্ন বি বড়ালের বেঞ্চের সামনে বিষয়টি উত্থাপন করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি জানান, উমর খালিদের পুনর্বিবেচনা আর্জির শুনানি আগামী বুধবার নির্ধারিত রয়েছে এবং তা খোলা আদালতে শুনানি করা হলে বিষয়টি আরও স্বচ্ছভাবে বিচার করা সম্ভব হবে।

কপিল সিব্বল আদালতে বলেন, এই আবেদনটি আদালতের বিবেচনার জন্য পেশ করা হচ্ছে। বিচারপতিরা চাইলে খোলা আদালতে শুনানির নির্দেশ দিতে পারেন। এর জবাবে বেঞ্চ জানায়, তারা বিষয়টি নথিপত্র দেখে বিবেচনা করবে। প্রয়োজন হলে খোলা আদালতে শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাধারণত পুনর্বিবেচনা আর্জি সীমিত পরিসরে বিচারপতিদের কক্ষে শুনানি হয় এবং খুব কম ক্ষেত্রেই তা খোলা আদালতে আসে। তবে এই মামলার গুরুত্বের কারণে খোলা শুনানির দাবি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবী মহল। এ বছরের জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট এই একই মামলায় উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, প্রাথমিকভাবে অভিযোগপত্রে এমন তথ্য রয়েছে, যা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে সমর্থন করে এবং আইনের নির্দিষ্ট ধারার কারণে জামিন দেওয়া সম্ভব নয়।


যদিও একই মামলায় আরও পাঁচজন অভিযুক্ত—গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সেলিম খান ও শাদাব আহমেদ—জামিন পান। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, উমর খালিদের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে পরিকল্পনা, জনসমাগম তৈরি এবং কৌশলগত নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও সরাসরি হিংসার কোনও ঘটনায় তার অংশগ্রহণের প্রমাণ নেই বলে দাবি করা হয়েছিল। তবুও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় প্রত্যেক অভিযুক্তের সরাসরি কাজ করা বাধ্যতামূলক নয়— সমষ্টিগত আচরণ থেকেই যোগসূত্র নির্ধারণ করা হয়।

তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই সমস্ত পর্যবেক্ষণ শুধুমাত্র জামিনের প্রশ্নে প্রযোজ্য এবং মূল বিচারের ওপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না।