পুরস্কার পেলেন উমর খালিদ (Umar Khalid) । দিল্লি হিংসা মামলায় প্রায় ছ’বছরের বেশি সময় ধরে তিনি (Umar Khalid) জেলবন্দি রয়েছেন। ২০২৬ সালের ‘অ্যাওয়ার্ড ফর হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স অ্যাট রিস্ক’ সম্মানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে জেলবন্দি সমাজকর্মী উমর খালিদকে (Umar Khalid) । বৃহস্পতিবার আয়ারল্যান্ডের মানবাধিকার সংগঠন ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স এই পুরস্কার ঘোষণা করেছে। জেলবন্দি থাকায় ডাবলিনে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিক থাকতে পারেননি খালিদ (Umar Khalid) ।
২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই মামলায় এখনও তাঁর বিচার শুরু হয়নি। মানবাধিকার রক্ষার কাজে যুক্ত থাকার জন্য যাঁরা হুমকি ও ঝুঁকির মুখে পড়েন, তাঁদের স্বীকৃতি স্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর ইরান, অ্যাঙ্গোলা, ব্রাজিল ও সার্বিয়ার মানবাধিকার কর্মী এবং আন্দোলনকারীরাও এই সম্মান পেয়েছেন।
ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খালিদের দীর্ঘদিনের কারাবাস ভারতের বৃহত্তর পরিস্থিতিকেই প্রতিফলন করে। ভিন্নমত দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার, জনমত গঠনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>Umar Khalid is the 2026 Asia winner of the Front Line Defenders Award. To those who try to silence his work, he is seen as an “enemy of the state’’ and an “anti-national”, but to others, he is a national hero, a voice of the people, and a human rights defender. For the last six years, Umar Khalid has been shackled behind bars for his leadership in the peaceful and democratic civil movement against the unconstitutional and anti-Muslim amendments to India’s citizenship laws. The law, which accompanied an increasingly hostile climate of growing Hindu nationalism, threatens to disproportionately strip Muslims of documentation and legal status. Umar Khalid, with a steady trajectory defending students’, minorities’ and citizens’ rights, is seen as one of the key voices speaking out against this injustice. Several major international human rights organisations, as well as the United Nations Working Group on Arbitrary Detention, have highlighted the illegality of his arrest and detention. Read more about him here: https://t.co/duZHTepbJA</p>— Front Line Defenders (@FrontLineHRD) <a href=”https://x.com/FrontLineHRD/status/2108167807011901791?ref_src=twsrc%5Etfw”>October 8, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই, এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত না করেই, কঠোর জামিনের বিধানকে শাস্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে ফ্রন্ট লাইন।
প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর থেকে তিনি জেলবন্দি রয়েছেন।
ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্সের বক্তব্য, উমর খালিদ বর্তমানে ভারতে একটি পরিচিত নাম। তবে তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিক অবস্থান ও মতাদর্শের ভিত্তিতে ভিন্ন।
তারা জানিয়েছে, খালিদের কাজকে স্তব্ধ করে দিতে চান, এমন কিছু মানুষ তাঁকে ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ এবং ‘দেশবিরোধী’ বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, অনেকে তাঁকে ‘জাতীয় নায়ক’, ‘জনগণের কণ্ঠস্বর’ এবং মানবাধিকার রক্ষক হিসেবে দেখেন।
ভারতের নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন সেই সময় চলছিল তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন খালিদ। ফ্রন্ট লাইনের মতে, ওই সংশোধনগুলি অসাংবিধানিক এবং মুসলিমবিরোধী। ফ্রন্ট লাইন আরও লিখেছে, ক্রমবর্ধমান হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের প্রেক্ষাপটে এই সংশোধনগুলি আনা হয়েছিল। নথিপত্র ও আইনি স্বীকৃতির প্রশ্নে মুসলিমদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের কথাও প্রকাশ করেছে তারা।
উমর খালিদের গ্রেপ্তার ও বন্দিদশা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘের ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন’-ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স।
আরও পড়ুন: আসামের নওগাঁতে চলছে ভোটগণনা, দু’বছর আগে জেতা এই আসনে কংগ্রেস কত নম্বর থাকবে?
এই মামলায় খালিদ, সমাজকর্মী শার্জিল ইমাম এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ), সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি প্রতিরোধ আইন, অস্ত্র আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচার শুরু না হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকায় উমর খালিদের মামলা মানবাধিকার সংগঠনগুলির বিশেষ নজর কেড়েছে। ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্সের মতে, ছাত্রছাত্রী, সংখ্যালঘু এবং সাধারণ নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন খালিদ।
এ বছর আরও চার জন মানবাধিকার রক্ষক এই পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁরা হলেন ইরানের মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনকর্মী আহমদরেজ হায়েরি, অ্যাঙ্গোলার নারীবাদী ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রে পক্ষে আন্দোলনকারী লরিন্দা ম্যানুয়েল গোভেইয়া, ব্রাজিলের কৃষ্ণাঙ্গ ট্রান্সজেন্ডার নেত্রী আদ্দা ভিক্টোরিয়া কায়েতানো এবং সার্বিয়ার নারীবাদী শান্তি প্রতিষ্ঠা কর্মী লিলিয়ানা নেশিচ।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=A59_scmUyh_aEOX6″ title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>