আসামে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পথে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সোমবার আসাম বিধানসভায় ‘দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, আসাম, ২০২৬’ বিল পেশ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার হয়ে বিলটি বিধানসভায় তোলেন রাজ্যের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বোরা। এই বিলের মাধ্যমে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি লিভ-ইন সম্পর্ক বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতেই এই আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, বহুবিবাহের মতো প্রথা নারীদের অধিকার খর্ব করে এবং পারিবারিক সমস্যার জন্ম দেয়। সেই কারণেই একাধিক বিয়েকে বেআইনি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে সমাজে লিভ-ইন সম্পর্কের সংখ্যা বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা এড়াতে এবং নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এমন সম্পর্কও সরকারি ভাবে নথিভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তবে বিলটি পেশ হতেই বিধানসভায় তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে সরকার। কংগ্রেস, রাইজর দল এবং তৃণমূল কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তোলে যে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন আনার আগে সাধারণ মানুষ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, সামাজিক সংগঠন এবং আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি। বিরোধীদের বক্তব্য, এই বিল মানুষের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় অধিকারের সঙ্গে জড়িত। তাই তাড়াহুড়ো করে আইন পাশ না করিয়ে আগে সর্বস্তরের মতামত নেওয়া উচিত।
বিরোধী শিবিরের দাবি, এই বিলের ফলে রাজ্যের সামাজিক ও ধর্মীয় ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মুসলিম সংগঠনগুলির একাংশ ইতিমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই আইন ব্যক্তিগত ধর্মীয় রীতিনীতির উপর হস্তক্ষেপ করতে পারে। যদিও আসাম সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, এই আইন কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমান নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আনা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসামে এই বিল পেশের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে ইউনিফর্ম সিভিল কোড নিয়ে বিতর্ক আরও জোরদার হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্তরেও দীর্ঘদিন ধরে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই আবহেই আসাম সরকারের এই পদক্ষেপ নতুন রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে। এখন বিলটি নিয়ে বিধানসভায় বিস্তারিত আলোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই নজর থাকবে।