জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই কিছুটা স্বস্তির খবর। শনিবার ভারতগামী আরও ২টি এলপিজি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা গিয়েছে যে, বিডব্লিউ ইএলএম এবং বিডব্লিউ টিওয়াইআর নামের ট্যাঙ্কার ২টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। প্রতিবেদন লেখার সময় ট্যাঙ্কার ২টি ওমান উপসাগরের দিকে এগোচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই জাহাজ দুটি ভারতে এসে পৌঁছবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিডব্লিউ ইএলএম এবং বিডব্লিউ টিওয়াইআর নামে জাহাজ দুটি একসঙ্গেই হরমুজ পেরিয়েছে। সবমিলিয়ে ৯০ হাজার টনেরও বেশি এলপিজি রয়েছে ওই জাহাজ দুটিতে। যুদ্ধ শুরুর পর বেশ কিছুদিন সমুদ্র পথে আটকে থাকার পর অবশেষে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে জাহাজগুলি। ইতিমধ্যেই তেল এবং গ্যাস নিয়ে ভারতের ৪টি জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে এসেছে। একমাস ধরে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এবার আরও দুটি গ্যাসবাহী জাহাজ ভারতে আসার পথে।
৯০,০০০ টনেরও বেশি এলপিজি বা রান্নার গ্যাস বহনকারী ভারতের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার দুটি উপসাগর ছাড়ার সময় একে অপরের কাছাকাছি চলছিল। প্রধানত অপরিশোধিত তেল বহনকারী আরও প্রায় ৫টি ভারতীয় ট্যাঙ্কার এখনও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে নোঙর করে আছে। এগুলিও হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। সব মিলিয়ে এখনও প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগর অঞ্চলে আটকে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যেগুলি ফাঁকা রয়েছে, সেগুলিতে এলপিজি বোঝাই করার কাজ চলছে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর।
সংঘাতের মধ্যেই ইরান ভারত ও আরও ৪টি বন্ধু দেশকে এই জলপথ দিয়ে তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। সূত্রের খবর, প্রয়োজনের তুলনায় খানিকটা ঘুরপথে হরমুজ প্রণালী পার করছে ভারতীয় জাহাজগুলি। দিনদুয়েক আগেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ নেই। ইরানের সঙ্গে যে কয়েকটি দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের জাহাজগুলিকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই বন্ধু দেশের তালিকায় চিন, রাশিয়া, ইরাক, পাকিস্তানের পাশাপাশি রয়েছে ভারতও। ইরান প্রশাসন যাতে ভারতীয় জাহাজগুলিকে চিহ্নিত করতে পারে সেকারণেই খানিকটা ঘুরপথে চলতে হচ্ছে ভারতীয় জাহাজগুলিকে। এক মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জগ বসন্ত, পাইন গ্যাস, শিবালিক এবং নন্দা দেবী নামে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলি এই প্রণালী অতিক্রম করেছে।
ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য ইরানের এই ছাড়পত্র দিল্লির জন্য একটি বড় স্বস্তির কারণ। কারণ ভারত তার জ্বালানি চাহিদার ৯০ শতাংশই আমদানি করে থাকে। এদিকে দেশে ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাস সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে বুকিং করা যাচ্ছে না। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারও অনেক জায়গায় অনিয়মিত। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে গ্যাসবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছলে কিছুটা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আটকে থাকা বাকি জাহাজগুলি কবে এই পথ পেরোতে পারবে এখন নজর থাকবে সেদিকে।