বিহারের আরারিয়া জেলায় ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দুই যুবকের। শুক্রবার ভোররাতে আরারিয়া–রানিগঞ্জ প্রধান সড়কে একটি দ্রুতগতির বুলেট মোটরবাইকের সঙ্গে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের জিপের সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে একজন এসএসবি জওয়ান, অন্যজন স্থানীয় বাসিন্দা। ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গিরহিন্দা শোরুমের কাছে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পুলিশের জিপের সঙ্গে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা মারে বুলেট মোটরবাইকটি। ধাক্কার তীব্রতায় দু’জনই ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
মৃতরা হলেন— ১) সুধীর কুমার কুশওয়াহা (৪২), আরারিয়া আরএস ওয়ার্ড নম্বর ৪-এর বাসিন্দা। তিনি এসএসবি-র ৫২ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ান হিসেবে আরারিয়া সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। ২) ভিকি কুমার জয়সওয়াল (৩৫), ফোর্বসগঞ্জ ট্রেনিং স্কুল চকের বাসিন্দা, ওয়ার্ড নম্বর ২১। ভিকির স্ত্রী আরারিয়া আরএস এলাকার মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল হাই স্কুলের শিক্ষিকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে দু’জনেই আরারিয়া আরএস এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। শুক্রবার ভোর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সুধীর তাঁর বন্ধু ভিকিকে আরারিয়া বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দিতে বুলেট মোটরবাইক নিয়ে রওনা দেন। দ্রুতগতিতে চলার সময় গিরহিন্দা শোরুমের কাছে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের জিপের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশকর্মীরা তড়িঘড়ি আহতদের উদ্ধার করে আরারিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল চত্বরে ও মৃতদের এলাকায় কান্নার রোল পড়ে যায়। শোকাহত হয়ে পড়ে দুই পরিবার।
ট্রাফিক থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রেম কুমার জানান, দু’টি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়াও চালানো হচ্ছে।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত গতি, রাতের সময় পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং রাস্তার পাশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড না থাকাই এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাঁরা অবিলম্বে রাস্তার আলোর ব্যবস্থা, সঠিক সাইনেজ ও নিরাপত্তামূলক পরিকাঠামো উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।
এই দুর্ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল রাতের বেলায় রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ নিয়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা স্থানীয়দের।