গুজরাতের জেতপুরের ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই যুবক। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে রিল বানাতে গিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে খবর। ঘটনায় আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শনিবার রাতে অবধ তিওয়ারি নামে এক যুবক তাঁর দুই বন্ধু দেবরাজ গোসাই এবং অক্ষয় প্রবীণভাই বাঘেলাকে নিয়ে গাড়ি করে বেরিয়েছিলেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সেই দৃশ্যের ভিডিও তৈরি করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা। সেই উদ্দেশেই গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইলের ক্যামেরা চালু করে রিল বানানো শুরু করেন অবধ।
গাড়ির স্টিয়ারিং এক হাতে ধরে অন্য হাতে ফোন ধরে তিনি স্পিডোমিটারের দৃশ্যও রেকর্ড করছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ির গতি ধীরে ধীরে বাড়ছে—৬০, ৮০, ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে আরও জোরে অ্যাক্সেলেটরে চাপ দেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ির গতি পৌঁছে যায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়।
এদিকে পিছনের আসনে বসে থাকা দেবরাজ ও অক্ষয়ও পুরো ঘটনাটি লাইভস্ট্রিম করছিলেন। ভিউ ও লাইক বাড়ানোর উদ্দেশে তারাও সেই ভিডিও সরাসরি সমাজমাধ্যমে প্রচার করছিলেন। অক্ষয় নিজের ফোন থেকে দ্রুতগতির সেই দৃশ্যের রিল বানানো শুরু করেন এবং স্পিডোমিটারে ওঠা গতির ছবিও পোস্ট করেন।
কিন্তু অতিরিক্ত গতির কারণে হঠাৎই গাড়ির উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি রাস্তার ডিভাইডারে সজোরে ধাক্কা মারে এবং কয়েক বার উল্টে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অবধ তিওয়ারির। গুরুতর আহত অবস্থায় দেবরাজ ও অক্ষয়কে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেবরাজের মৃত্যু হয়। অক্ষয়ের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি দেখতে পান এবং দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে গাড়ি থেকে তিন যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সমাজ মাধ্যমের জন্য বিপজ্জনক স্টান্ট বা দ্রুতগতির ভিডিও বানানোর প্রবণতা কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে।