উত্তরপ্রদেশের কানপুরে বৃহস্পতিবার ভেঙে পড়ল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত একটি বিমান। এই বিমান দুর্ঘটনায় চালক এবং সহকারী চালকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে উদ্ধারকারী দল। এই বিমান দুর্ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে। বেসরকারি বিমান সংস্থার প্রশিক্ষণ বিমান সজোরে আছড়ে পড়ে একেবারে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। গঙ্গা ব্যারাজের কাছে নাথুপুরওয়া গ্রামের কাছে একটি ব্যক্তিগত টুইন-ইঞ্জিন প্রশিক্ষণ বিমান খোলা মাঠে আছড়ে পড়ে। এই বিমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ঠিক কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে বিমানে বিস্ফোরণ ঘটল সেটা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, টুইন-ইঞ্জিন বিশিষ্ট বিমান ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। বিমানের ভিতর থেকে বের হওয়ার কোনও সুযোগ পাননি দু’জন চালক। প্রধান চালকের নাম সচিন ভাটিয়া। তিনি গুজরাতের বাসিন্দা। আর সহকারি চালক অভিষেক পুজারী। তিনি কর্নাটকের বাসিন্দা। চার আসনের বিমানটি গঙ্গার তীরে নবাবগঞ্জ থানার অধীনস্থ এলাকায় আছড়ে পড়ে। এই বিমান দুর্ঘটনার পর জরুরি তৎপরতা শুরু হয় পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দলের। একজন পাইলট ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর একজন টেনে বের করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রশিক্ষণ বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাঠে আছড়ে পড়ার ঠিক আগেই তাঁরা একটি তীব্র শব্দ বা বিস্ফোরণের আওয়াজ পেয়েছিলেন। ওই শব্দের প্রকৃত কারণ এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা ঘটল সেটা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থল সুরক্ষিত করে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ শুরু করেছেন। এমনকী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিমানের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা এবং ফ্লাইট ও তার আরোহীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। বিমান পরিচালনা সংস্থা, তদন্তের মাধ্যমে বিমানটি আছড়ে পড়ার কারণ এবং দুর্ঘটনার আগে ঘটনাক্রম উদঘাটন করা হবে বলে আশা করছে।
তাছাড়া কদিন আগেই আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তি ছিল। একবছর আগের বিভীষিকাময় ঘটনার স্মৃতি এখনও অমলিন ভুক্তভোগীদের মনে। সেই দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। ওই ঘটনার পরও দেশে একাধিক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যু হয়েছে অজিত পাওয়ারের মতো রাজনৈতিক নেতার। এই দুর্ঘটনাগুলির অনেকগুলিরই কারণ এখনও জানা যায়নি। এবার কানপুরে আবার বিমান ভেঙে পড়ল। আর এই দুর্ঘটনা নিয়ে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত শুরু করেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।