সোমবার সকাল থেকেই উত্তাল ত্রিপুরা। রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশক (ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ বা ডিজিপি, Director General of Police) অনুরাগ ধনখড়কে (Anurag Dhankar) মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আগরতলার পুলিশ সদর দপ্তরে (Police Headquarters) তাঁর নিজের অফিসঘর থেকে। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা (suicide) করেছেন। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ময়নাতদন্তের (post-mortem) রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত কোনও কিছুই সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
ঠিক কী ঘটেছিল
বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নিজের চেম্বারে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায় ধনখড়কে। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় আগরতলার জিবি হাসপাতালে (GB Hospital), যেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর ধরন নিয়ে অবশ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। কোনও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের সার্ভিস পিস্তলের (service pistol) গুলিতে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। আবার কোনও প্রতিবেদনের দাবি, চেম্বারের মধ্যেই ফাঁস লাগানো অবস্থায় মিলেছে তাঁর দেহ। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যান পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং শুরু হয় তদন্ত। ফরেন্সিক দল এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট হবে, ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন সকালে।
কে এই অনুরাগ ধনখড়
১৯৯৪ ব্যাচের ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস, Indian Police Service) অফিসার ছিলেন অনুরাগ ধনখড়, ত্রিপুরা ক্যাডারের। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ত্রিপুরার ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ, আইন-শৃঙ্খলা (Inspector General of Police, Law and Order) পদে কর্মরত। গত বছরই তিনি রাজ্যের ডিজিপি পদে দায়িত্ব নেন।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-এও (Central Bureau of Investigation) দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ধনখড়। সেই সময়েই দেশের অন্যতম চর্চিত ব্যাংক জালিয়াতি কাণ্ড, নীরব মোদী মামলার (Nirav Modi case) তদন্তের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। হাজার হাজার কোটি টাকার পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (Punjab National Bank) জালিয়াতি মামলা গোটা দেশে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। সেই তদন্তের অভিজ্ঞতা নিয়েই পরবর্তীতে নিজের রাজ্যের শীর্ষ পুলিশকর্তার আসনে বসেন তিনি।
শোকের ছায়া
রাজ্যের সর্বোচ্চ পুলিশকর্তার আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে স্তম্ভিত গোটা ত্রিপুরা প্রশাসন। পুলিশ বাহিনীর অন্দরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তে কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ পুলিশ প্রশাসন। সবিস্তার সদন্ত, ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সামনে এলে তবেই স্পষ্ট হবে, ঠিক কী কারণে এমন এমন ভয়ঙ্কর পরিণতি হল এক প্রবীণ ও অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারের।
এই প্রতিবেদনটির বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারও মনে যদি আত্মহননের চিন্তা আসে বা কেউ মানসিক ভাবে সংকটে থাকেন, তা হলে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করুন।
Lifeline Foundation
Number: +91 90880 30303 / +91 91639 40404
Hours: 10:00 AM – 10:00 PM daily
Languages: Bengali, Hindi, English
iCALL (TISS)
Number: 022-25521111
Hours: Monday to Saturday, 10:00 AM – 8:00 PM
Languages: Bengali, Hindi, English