নন্দিনীদের বদলি নিয়ে রাজ্যসভা ওয়াকআউট তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট ঘোষণার পর রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের আচমকা বদলির সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। ভোট ঘোষণার রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসকদল।

রবিবার বিকেলে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন। এ বার রাজ্যে দু’দফায় ভোট গ্রহণ হবে—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য প্রশাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদলির নির্দেশ জারি করে নির্বাচন কমিশন।

প্রথমেই মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে। তাঁর পরিবর্তে নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিবের পদ থেকেও সরানো হয় জগদীশপ্রসাদ মীনাকে। সেই পদে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন সংঘমিত্রা ঘোষ।


শুধু প্রশাসনেই নয়, পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরেও বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। রাজ্যের পুলিশপ্রধান পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে ডিজিপি পদে আনা হয়েছে সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে। পাশাপাশি কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের পরিবর্তে নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজয় নন্দকে। এছাড়াও পুলিশের আরও কয়েকজন শীর্ষকর্তার বদলির সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

এই আকস্মিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। ‘জিরো আওয়ার’-এর আগে তিনি কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, গভীর রাতে এভাবে রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের সরিয়ে দেওয়া নজিরবিহীন এবং তা প্রশ্নের মুখে ফেলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে।

রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডেরেক নিজের পোশাকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ওরা (কমিশন) বলতেই পারে আমি সাদা জামা পরে নেই, নীল জামা পরে আছি। কিন্তু এই প্রতিবাদে আমরা, তৃণমূল সাংসদেরা আজকের জন্য অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করছি।‘ এই মন্তব্যের পরই প্রতিবাদস্বরূপ তৃণমূলের সাংসদেরা অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোট ঘোষণার পর এত দ্রুত এবং একযোগে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বদলি হওয়া বিরল ঘটনা। ফলে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। এখন এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।