ভারত ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করলেন কানাডার মন্ত্রী রাজন সোহনি। তাঁর কথায়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত ও কানাডা একে অপরের পরিপূরক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ‘তীব্র সম্ভাবনা’ রয়েছে।
এক আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজন সোহনি বলেন, ‘ভারত একটি দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি। প্রযুক্তি, উৎপাদন, পরিষেবা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। অন্যদিকে, কানাডার রয়েছে শক্তিশালী প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নত কৃষি ব্যবস্থা এবং স্থিতিশীল আর্থিক পরিকাঠামো। এই দুই শক্তিকে একত্রিত করা গেলে দু’দেশের অর্থনীতিই লাভবান হবে।’
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিচ্ছন্ন শক্তি, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন— এই ক্ষেত্রগুলিতে ভারত–কানাডা সহযোগিতার নতুন পথ খুলে যেতে পারে। বিশেষ করে স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী সোহনি মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে ছাত্রছাত্রী ও পেশাদারদের আদানপ্রদান শুধু মানবসম্পদ উন্নয়নেই সাহায্য করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিক সম্পর্ককেও মজবুত করবে। তাঁর মতে, ‘মানুষে-মানুষে সংযোগ যত বাড়বে, ততই বিশ্বাস ও অংশীদারিত্ব গভীর হবে।’
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি আলাদা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। সেই জায়গা থেকেই কানাডার এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় দেশ যদি পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগোয়, তবে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।
ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত বাজার এবং কানাডার প্রযুক্তি ও সম্পদভিত্তিক শক্তির সমন্বয় দুই দেশের শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।