মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ভগীরথপুর এলাকায় ‘বিষাক্ত’ পানীয় জলের কারণে মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে সাত জনের। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও দুশোর বেশি মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন রাজ্যের আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা ইন্দোর-১ এর বিধায়ক কৈলাস বিজয়বর্গীয়।
স্থানীয় একটি চ্যানেলের সাংবাদিক সেখানে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, কেন অসুস্থরা চিকিৎসার খরচ পাচ্ছেন না এবং কেন নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয়ের সঙ্গে ওই সাংবাদিকের বাগযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। মন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিকের বাগ্বিতন্ডার সেই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেই ভিডিও দ্রুত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মন্ত্রী মেজাজ হারিয়ে সাংবাদিককে বলেন, ‘আরে! ছাড়ুন, এ রকম বেকার প্রশ্ন কেন করছেন?’ সাংবাদিক পাল্টা বলেন, তিনি কোনও ভিত্তিহীন প্রশ্ন করছেন না। একজন অভিজ্ঞ মন্ত্রীর উচিত শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকা। মন্ত্রীর ব্যবহার করা ‘ঘণ্টা হয়েছে’ শব্দবন্ধের অর্থ বাংলায় বোঝানো যায়, ‘তাতে কী এসে-গেল?’ কিন্তু সাংবাদিক পাল্টা বলেন, ‘আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না।’ মন্ত্রীর সঙ্গীরা ওই সাংবাদিককে সরে যেতে বলেন। কিন্তু তিনি অবস্থান বজায় রেখে মন্ত্রীকে সতর্ক করতে থাকেন।
ঘটনার পর রাতে বিজয়বর্গীয় নিজের এক্স হ্যান্ডলে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘আমি এবং আমার আধিকারিকরা দিনরাত এক করে গত দু’দিন ধরে পরিস্থিতি সামলাচ্ছি। আমার পরিচিত অনেকের মধ্যে কেউ কেউ মারা গেছেন।’ মধ্যপ্রদেশ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডায়েরিয়ার কারণে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের ভর্তি রয়েছেন ২১২ জন, যাঁদের মধ্যে ৫০ জনকে চিকিৎসা শেষে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা ও অসুস্থতার খবর নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চর্চা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক-মন্ত্রী দ্বন্দ্বে আরও বেশি নজর কেড়েছে। এই ঘটনা রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য এবং অভিযোগে নাম জড়িয়েছে কৈলাস বিজয়বর্গীয়র। তিনি আগে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক পদে নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু বিতর্কের কারণে তাঁকে মধ্যপ্রদেশে স্থানান্তরিত করা হয়।
ভগীরথপুরে এই ঘটনা শুধু স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, রাজনৈতিক এবং সামাজিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়রা নিরাপদ পানীয় জলের দাবি জানিয়ে সরকারের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।