দিল্লিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদের সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দুর

মীনাক্ষী ভট্টাচার্য দিল্লি, ৮ জুন – নয়াদিল্লিতে সোমবারের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদের সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। এমনকি দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের মধ্যেই এই তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, সোমবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনে তৃণমূলের অন্তত ছয়জন বিদ্রোহী সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। পরে দুপুরের দিকে সেখানে পৌঁছন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, লোকসভার মোট ১৪ জন তৃণমূল সাংসদ ওই বৈঠকে অংশ নেন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

দুপুর ২টার কিছু পরে ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবন থেকে বেরিয়ে যান শুভেন্দু অধিকারী। তবে তৃণমূলের বিদ্রোহী বলে পরিচিত সাংসদরা তখনও সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেখানেই সন্ধ্যায় আরও বৃহত্তর বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সূত্রের দাবি, দিল্লিতে সাংসদ শতাব্দী রায়ের সরকারি বাসভবনে প্রায় ২০ জন সাংসদের উপস্থিতিতে পরবর্তী বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়। সরকারি কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীও সেখানে পৌঁছন বলে খবর।


বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ২৯। দলবদল বিরোধী আইনের বিধান অনুযায়ী, দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন না পেলে কোনও গোষ্ঠীর পক্ষে ভাঙনকে বৈধতা দেওয়া সম্ভব নয়। সেই হিসেবে ন্যূনতম ২২ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। সোমবারের বৈঠকে ১৪ জন সাংসদ অংশ নেওয়ার দাবি করা হলেও, প্রয়োজনীয় সংখ্যার জন্য এখনও আরও আটজন সাংসদের সমর্থন দরকার। ফলে আগামী কয়েকদিনের রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

অন্যদিকে, শুধুমাত্র লোকসভাই নয়, রাজ্যসভাতেও তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত। রাজ্যসভায় দলের ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ইতিমধ্যেই সুখেন্দু শেখর রায় সাংসদ পদ ও দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি আরও কয়েকজন সদস্যের অবস্থান নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও রাজ্যসভার সদস্য কোয়েল মল্লিককে ঘিরে নানা রাজনৈতিক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে তাঁর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে দিল্লির বৈঠকগুলির পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।