পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে ফ্রিজ থাকা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল দল। তবে সেই আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের অবস্থানে হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত। ফলে আপাতত ফ্রিজই থাকছে ওই চারটি অ্যাকাউন্ট।
শুনানিতে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে জোরালো সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তাঁর বক্তব্য, একটি রাজনৈতিক দলের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হলে দলের দৈনন্দিন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাজ কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে।
সিংভির দাবি, দলের অডিটেড হিসাব অনুযায়ী বছরে ন্যূনতম প্রায় ২১২ কোটি টাকা খরচ হয়। দৈনন্দিন সাংগঠনিক কাজ চালাতে মাসে প্রায় ১২.১৫ কোটি টাকা প্রয়োজন। সামনে উপনির্বাচন থাকায় দলের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালাতে ওই অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হোক। আদালতে এমনই আবেদন জানানো হয়।
শুনানিতে সিংভি বলেন, ‘কোনও রাজনৈতিক দলের সমস্ত অ্যাকাউন্ট সফলভাবে ফ্রিজ করে দেওয়া গেলে তার রাজনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করার সেটিই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হয়ে দাঁড়ায়।’ তাঁর দাবি, ছয়টি রাজ্যে দলের দপ্তর, দলীয় বৈঠক, মিডিয়া টিম এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজ চালাতে নিয়মিত বিপুল অর্থের প্রয়োজন।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিংভি। তাঁর বক্তব্য, বিএনএসএস (BNSS)-এর ১০৭ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে বিচারবিভাগীয় নজরদারির একটি উপাদান রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঘটনায় সেই ধরনের বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ হয়নি বলেই তাঁর দাবি।
কেন্দ্রের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা পাল্টা যুক্তি দেন, বিষয়টি শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর প্রশ্ন নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গও শুনানিতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
মেহতার দাবি, একটি অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্তে উঠে এসেছে দলের এক পদাধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা নগদ জমা হয়েছিল। সেই সূত্রেই তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়েছে বলে আদালতে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: বুধের পর বৃহস্পতিতেও ভোগান্তি, মালদহ ডিভিশনে বাতিল ২২টি ট্রেন
মেহতার বক্তব্যের জবাবে সিংভি বলেন, ‘অর্থপাচারের অভিযোগ এই মামলার মূল বিষয় নয়।’ তাঁর বক্তব্য, দলের দাবি একটাই, ফ্রিজ হয়ে থাকা অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হোক। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের ১৭ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্ত এবং কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ আধিকারিক নিয়োগের বিষয়ও উঠে আসে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাইকোর্ট সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করেছে।