আসামে প্রথম দফায় তৃণমূলের ১৭ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ

প্রতীকী চিত্র

আসন্ন আসাম বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম দফায় ১৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নামতে কৌশলী প্রার্থী বাছাই করেছে দল।

প্রকাশিত তালিকায় অন্যতম বড় মুখ দুলু আহমেদ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নির্দল হিসেবে লড়াই করার পর তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং বর্তমানে আসামে দলের অন্যতম ভরসা হিসেবে উঠে এসেছেন। কাছাড়, কোকরাঝাড়, তিনসুকিয়া, কামরূপ, গোয়ালপাড়া এবং ধুবরির মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। কামরূপ জেলায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চামারিয়া কেন্দ্রে দুলু আহমেদ, বকো-ছায়গাঁও (এসটি) কেন্দ্রে ভোগলাল রাভা এবং পলাশবাড়িতে বিকাশ নাথ যোগীকে প্রার্থী করা হয়েছে।

কোকরাঝাড়ের বাওখুংরি কেন্দ্রে উদাংশ্রী নার্জারি, ধুবরির বিলাসীপাড়া কেন্দ্রে মোমিনুর ইসলাম এবং গোয়ালপাড়ার জলেশ্বর কেন্দ্রে আরিফ আখতার আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়াও অভয়াপুরীতে কৌশিক রঞ্জন দাস, বাজালিতে কল্যাণী কলিতা এবং বরক্ষেত্রীতে আমিরুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন।


জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় সংগঠন বাড়াতে ধেমাজি (এসটি) আসনে নরেন্দ্র কুমার পাওকে প্রার্থী করা হয়েছে। উচ্চ অসমে ডিগবয় কেন্দ্রে জিতেন নাগ এবং মাকুম কেন্দ্রে দিলীপ মোরান লড়বেন। বরাক উপত্যকায় সংগঠন শক্তিশালী করতে উধারবন্দে তাপস দাস, কাটিগাড়ায় ফজলুর রহমান লস্কর এবং সোনাই কেন্দ্রে শাহজাহান লস্করকে প্রার্থী করেছে দল।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল ৫১টি আসনে লড়াই করার লক্ষ্য নিলেও, বিরোধী ভোট বিভাজন এড়াতে প্রয়োজনে আসন সংখ্যা কমানোর কথাও জানানো হয়েছে। দলের রাজ্য নেত্রী সুস্মিতা দেব স্পষ্ট করেছেন, বিজেপিই প্রধান প্রতিপক্ষ।

অন্যদিকে, বিজেপি ইতিমধ্যেই ৮৮টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন।
আগামী ৯ এপ্রিল এক দফায় ভোটগ্রহণ হবে আসামে। এই নির্বাচনে বাঙালি ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারে নামছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই দলের তারকা প্রচারকদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতে তৃণমূলের এই লড়াই ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।