এনসিপিআই-তে যোগ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের, ত্রিপুরার দলে গিয়ে চিঠি স্পিকারকে

জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে বড় খেলা খেলে দিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। রবিবার এনসিপিআই-তে যোগ দিলেন তাঁরা। এটা ত্রিপুরার একটি অস্তিত্বহীন দল বলেই পরিচিত। সেখানেই মিশে গেলেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। চার বছরের পুরনো একটি দল ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় (এনসিপিআই) যোগ দিয়ে এনডিএ-তে সামিল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। এই ঘটনা ঘটিয়ে নয়াদিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে পৃথক ব্লকের আবেদনই জানালেন তাঁরা।

এদিকে এই ঘটনার আগে রবিবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি পৌঁছে যায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে। সেই চিঠি পৌঁছে দেন সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। তারপরই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের গোটা পরিকল্পনা সামনে চলে আসে। এই পদক্ষেপ আসলে জাতীয় রাজনীতিতে ভেসে থাকার কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এই দলটি এনসিপিএন নামে অন্তর্ভুক্ত আছে। এই দলে যোগ দিলেও বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কেই সমর্থন করবেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদাররা।

অন্যদিকে এই নতুন দলের মূল রাজনৈতিক ফোকাস হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরা বলে সূত্রের খবর। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরার ধলাই জেলার চৌমানু কেন্দ্রে এবং উনকোটি জেলার কৈলাসহর কেন্দ্রে এনসিপিআই-এর প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে এই দলের প্রতিষ্ঠাতা কে বা কারা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। এই বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছিল, তৃণমূলের মধ্যেই আলাদা ব্লক গড়ে তুলবেন। স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের আসন বদলে দেওয়ার দাবি জানাবেন। কিন্তু বাস্তবে সেটা দেখা গেল না।


তাছাড়া এখন এই দলেরই সদস্য এখন কাকলী ঘোষদস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, মালা রায় থেকে শুরু করে দেব, সায়নী ঘোষরা। আইনি জট এড়াতেই পৃথক দলে মিশে যাওয়ার পদক্ষেপ নিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। সেক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা হাতছাড়া হওয়া বাদে দলের তেমন কোনও ক্ষতি হলো না। হাওড়ার বাঁকরার ঠিকানায় নথিভুক্ত এই পার্টি তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই দলেই মিশে গেলেন কাকলি-সুদীপরা। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কাকলি ঘোষদস্তিদার সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আমরা যারা নির্বাচিত সাংসদ, তারা দলের প্রতি আমাদের ক্ষোভ আজ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে জানিয়েছি এবং আলাদা দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টির সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানাই। আলাদা বসার চিঠি দিয়েছি আমরা। দুই তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বেশি রয়েছি আমরা। দেশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করব আমরা।’