সিমিলিপালে ইতিহাস গড়ল বাঘিনী জিনাত, ৪ শাবকের জন্ম, উচ্ছ্বসিত বনদপ্তর

ছবি: এএনআই

দীর্ঘ টানাপোড়েন, জঙ্গলপথে দিশাহীন যাত্রা  এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রমের পর অবশেষে সুখবর দিল সিমিলিপাল টাইগার রিজার্ভ। সেখানে বাঘিনী জিনাত একসঙ্গে ৪টি শাবকের জন্ম দিয়েছে। বনদপ্তর জানিয়েছে, মা ও ৪ শাবকই সুস্থ রয়েছে। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ওড়িশার বনমন্ত্রী গণেশ রাম সিংখুন্টিয়া জানিয়েছেন, ‘বাঘিনী এবং তার শাবকেরা সুস্থ আছে।’ এই ঘোষণার পরই বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ মহলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

মহারাষ্ট্রের তাডোবা-আন্ধারি ব্যাঘ্রপ্রকল্পে জিনাতের জন্ম। ২০২৪-এর নভেম্বরে তাকে ওড়িশার সিমিলিপালে স্থানান্তর করা হয় ইনব্রিডিং কামানোর জন্য। জিনগত বৈচিত্র্য আনার উদ্দেশে তাকে সিমিলিপালে আনা হয়। তার নতুন নাম দেওয়া হয় গঙ্গা। তাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়।

সিমিলিপালে আনার কিছুদিন পরই জিনাত হঠাৎ করে বেরিয়ে পড়ে। এরপর শুরু হয় তার দীর্ঘ জঙ্গলভ্রমণ—ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহল এবং একাধিক সংরক্ষিত বনাঞ্চল পেরিয়ে সে ঘুরে বেড়ায় দিনের পর দিন। তার যাত্রাপথে ছিল ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল, ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি ও কাকড়াঝোড়, পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ও রাইকা পাহাড়, বাঁকুড়া জেলার রাণিবাঁধ অঞ্চল।


শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তর ও বিশেষজ্ঞ বনকর্মীদের একত্রিত উদ্যোগে তাকে বাঁকুড়ার জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে আলিপুর চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হয় এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকায় আবার সিমিলিপালে ফিরিয়ে দেওয়া হয় গ্রিন করিডরের মাধ্যমে।

পরবর্তীতে সিমিলিপালে থাকা অবস্থায় জিনাতের একটি পুরুষ বাঘের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয় বলে জানা যায়। এরপরই তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়। দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস অপেক্ষার পর অবশেষে সে চারটি শাবকের জন্ম দেয়। ক্যামেরা ট্র্যাপে প্রথম শাবকদের দেখা মেলে ২০২৫-এর মে মাসের শেষ দিকে। বনদপ্তরের দাবি, শাবকগুলো সদ্যোজাত এবং বয়স আনুমানিক কয়েক সপ্তাহ।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চারটি শাবকই সুস্থ রয়েছে। তাদের গায়ের রং স্বাভাবিক হলুদ-কালো ডোরাকাটা, তবে তাদের লিঙ্গ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তাদের ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।  বনদপ্তরের মতে, রেডিও কলার ও জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জিনাত এখন ‘ভিভিআইপি’ নজরদারিতে রয়েছে।

জিনাতের ৪ শাবকের জন্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বহু রাজ্য পেরিয়ে তার যাত্রা, উদ্ধার অভিযান এবং শেষ পর্যন্ত সফল প্রজনন—সব মিলিয়ে জিনাতকে ঘিরে এই অভিযান সিমিলিপালের সংরক্ষণ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করল।

এই প্রকল্পটি ছিল ভারতের দ্বিতীয় সফল ইন্টার-স্টেট টাইগার ট্রান্সলোকেশন উদ্যোগ। লক্ষ্য ছিল একাধিক রাজ্যের মধ্যে বাঘ স্থানান্তর করে জিনগত বৈচিত্র্য বাড়ানো। এর আগের একটি প্রকল্পে, কানহা–সাতকোসিয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পর এবার সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন বনকর্তারা।