তামিলনাড়ুতে ত্রিমুখী লড়াই, সকালে ১১ টার মধ্যে ৩৭ শতাংশ পার ভোটে অংশগ্রহণ

বাংলার প্রথম দফার ভোটের সঙ্গেই দক্ষিণে জোরকদমে চলছে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ২৩৪টি আসনে একদফায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই ভোটারদের উৎসাহ চোখে পড়ার মতো—নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৩৭.৫৬ শতাংশ।  

দীর্ঘদিনের ডিএমকে বনাম এআইএডিএমকে দ্বৈরথ এবার কার্যত ত্রিমুখী। শাসক দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগমের নেতৃত্বে এমকে স্ট্যালিন যেমন ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া, তেমনই অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগমের নেতৃত্বে এডাপ্পাডি কে পালানিস্বামীর সামনে অস্তিত্বের লড়াই। তবে এই সমীকরণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয় এবং তাঁর দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম।

সংবাদমাধ্যমগুলির মতে, কয়েক দশকের ‘দ্রাবিড় দ্বিমুখী রাজনীতি’ এ বার ভাঙার মুখে। বিজয়ের প্রবেশে ভোটের লড়াইয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং ফলাফলেও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।


এ দিন সকালেই নিজের ভোট দেন স্ট্যালিন, পালানিস্বামী এবং বিজয়। ভোটের লাইনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তারকাদের উপস্থিতিও নজর কেড়েছে। তবে কিছু জায়গায় ভিড় ও উত্তেজনার কারণে বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনাও সামনে এসেছে।

এবার নির্বাচনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—লজিস্টিক সমস্যা। ভোটের দিন পরিবহণে সমস্যার অভিযোগ তুলে ভোটের সময় বাড়ানোর আবেদনও জানিয়েছেন বিজয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিএমকে জোট কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিজয়ের দল ফলাফলে সমীকরণ বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের একাংশ তাঁর দিকে ঝুঁকতে পারে। 

সব মিলিয়ে তামিলনাড়ুর এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়—বরং পুরনো রাজনৈতিক আধিপত্য বনাম নতুন শক্তির উত্থানের এক বড় পরীক্ষা। এখন নজর ৪ মে ফল ঘোষণার দিকে, যেখানে স্পষ্ট হবে—দক্ষিণে নতুন রাজনৈতিক যুগ শুরু হচ্ছে কি না।