রবিবাসরীয় বাণিজ্যনগরীতে ছুটির দিনেও আলোড়ন পড়ে গেল। তোলপাড় গোটা মুম্বাই। পুলিশ-প্রশাসন দৌড়াদৌড়ি করতে শুরু করেছে। যান নিয়ন্ত্রণ থেকে নাকা তল্লাশি শুরু হয়। আঁটোসাঁটো করা হয় নিরাপত্তা। সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতি দেখে প্রশ্ন করতে থাকেন, কী হয়েছে ওখানে? ‘তাজ হোটেলে বোমা রাখা হয়েছে’ এমনই ফোনকল রবিবার মাঝরাতে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দেয়। যা চলে সকাল পর্যন্ত। রাতারাতি নিরাপত্তা বেড়ে যায় তাজ হোটেলে। হুমকির খবর মেলার পরই হোটেল চত্বরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে ফেলা হয়। এমনকী সতর্কতা জারি করে মুম্বাই পুলিশ।
এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, ২৬/১১ হামলার স্মৃতি। মুম্বাইয়ের আইকনিক তাজমহল প্যালেস হোটেলে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটেছিল ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর। এটিকেই বলা হয় ভয়াবহ ২৬/১১ হামলা। ওই হামলায় ১৭৩ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। রবিবার দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চালানোর পর পুলিশ সূত্রে খবর, কোথাও কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু মেলেনি। এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে নিশ্চিত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। রবিবার রাত ১২টা ১৩ মিনিটে নভি মুম্বাই পুলিশ কন্ট্রোল রুমে একটি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ফোন করে জানান, ‘দাউদ তাজ হোটেলে বোমা রেখেছে।’ এই খবর পেয়েই সেই তথ্য মুম্বাই পুলিশ কন্ট্রোল রুমে পাঠানো হয়। খবর পেযেই কোলাবা থানার পুলিশ, ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং বম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল স্কোয়াডের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।
ওই মাঝরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় চলে তল্লাশি। তাজ হোটেলের মূল লবি, সুইমিং পুল, ব্যাঙ্কোয়েট হল, রেস্তোরাঁ, পার্কিং এলাকা-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি অভিযান। তবে হোটেলের কোথাও কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু মেলেনি। তার পরই বোমা রাখার হুমকিকে ভুয়ো বলে ঘোষণা করা হয় তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হুমকির ফোন এসেছিল নভি মুম্বাইয়ের তুরভে এলাকা থেকে। এখন ব্যবহৃত ওই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্তকে শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই জঙ্গি হামলায় টার্গেট করা হয়েছিল এই বিখ্যাত তাজ হোটেলকে। সেই হামলায় প্রায় ১৭৩ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। সুতরাং এই ধরনের হুমকি ফোনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই দেখছে নিরাপত্তা বাহিনী। কিছুদিন আগেই মুম্বাই পুলিশের কন্ট্রোল রুমে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির ফোনে তুলকালাম পড়ে যায় নয়াদিল্লিতে। কারণ তখন ফোন করে বলা হয়েছিল দিল্লির লালকেল্লায় বোমা রাখা আছে। বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হবে ঐতিহাসিক সৌধ। মুম্বাই পুলিশ সেই তথ্য দিল্লি পুলিশকে জানিয়ে দিতেই উত্তর দিল্লি জেলা পুলিশ, বম্ব স্কোয়াড এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়েছিল। যদিও কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়নি।