২১ মে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৭-এ একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। ২০২৯-এ রয়েছে লোকসভা ভোট। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের হিসেবকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব এখন থেকেই সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার বহু প্রতীক্ষিত রদবদল নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে ২১ মে-র বৈঠকে।
সদ্য হয়ে যাওয়া চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ফল করেছে বিজেপি। এই প্রথমবার বাংলায় বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে পদ্ম শিবির। এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে, মোদী মন্ত্রীসভায় রদবদল আসন্ন। রাজনৈতিক মহলের জল্পনা, পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবার পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বর্তমান মোদী মন্ত্রীসভায় ৭২ জন সদস্য রয়েছেন। সাংবিধানিকভাবে নিয়মে এখনও কয়েকজন মন্ত্রী মন্ত্রীসভার অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র ও দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে কেন্দ্রে নতুন মুখ আনা হতে পারে। সম্প্রতি নারীশক্তি নিয়ে সরব হয়েছিল মোদী সরকার। কার্যকর করা হয়েছে মহিলা সংরক্ষণ আইন। তাই এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় কিছু মহিলা মুখের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও প্রবল। মোদী মন্ত্রীসভায় বাংলা এতদিন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও একটিও পূর্ণমন্ত্রক পায়নি। কিন্তু এবার বাংলায় বিজেপির চোখ ধাঁধানো সাফল্যের পর সেই ছবি বদলাতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সূত্রের খবর, জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের বাদল অধিবেশনের আগেই এই রদবদল হতে পারে।
দিল্লির রাজনীতিতে জল্পনা চলছে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং দলীয় সাংসদ সৌমিত্র খাঁ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় জায়গা পেতে পারেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কের জেরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের পারফরম্যান্স নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস বিতর্কে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভূমিকা আতস কাচের নিচে রয়েছে।
পাশাপাশি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যে কারণে বৈষ্ণবের দপ্তর বদল হতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, ২১ মের বৈঠকে একাধিক মন্ত্রী ও তাঁদের মন্ত্রককে গত দুই বছরের কাজের খতিয়ান পেশের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগেও বিভিন্ন মন্ত্রী ও তাঁদের মন্ত্রকের কাজকর্ম খতিয়ে দেখার পর একাধিক মন্ত্রীকে কাটছাঁট করে নতুনদের জায়গা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা কয়েকজন নেতাকেও এবার বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। যার মধ্যে আছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, শিবরাজ সিং চৌহান, ভূপেন্দ্র যাদব। তবে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা বিজেপির তরফে কোনও কিছুই খোলসা করা হয়নি। ফলে গোটা বিষয়টি আপাতত জল্পনার স্তরে রয়েছে।