ভারতকে তার চাহিদা মতো তেল জোগাতে প্রস্তুত আমেরিকা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের মুখে পড়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে ধাক্কা লাগায় দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও সিএনজির দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল আমেরিকা। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, দিল্লির চাহিদা মতো জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন।

রুবিও জানান, জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একদফা আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি রপ্তানিতে দিল্লিকে বৃহত্তর শরিক করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। কারণ, ভারতের মতো বড় মাপের বাজার খুব কমই আছে। রুবিও আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। তারা আমাদের খুব ভালো বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার। আমরা চাই ভারতের সঙ্গে এই সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে এবং এগিয়ে নিয়ে যেতে।’

এদিকে, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে সে দেশের তেলক্ষেত্রগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে আমেরিকা। মার্কিন শোধনাগারগুলিতে এখন বিপুল পরিমাণ ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল আসছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, প্রায় ৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভেনেজুয়েলা থেকে আমেরিকায় এসেছে। এই আবহেই ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে এসে তেল রপ্তানি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন রুবিও।চলতি মাসের ২৪ তারিখে তিন দিনের ভারত সফরে আসছেন মার্কো রুবিও। দিল্লির পাশাপাশি তাঁর আগ্রা, জয়পুর ও কলকাতা সফরেরও সূচি রয়েছে।


উল্লেখ্য, ২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিন্টন কলকাতা সফরে এসেছিলেন। অর্থাৎ প্রায় ১৪ বছর পর কোনও মার্কিন বিদেশসচিব বাংলায় আসছেন। কূটনৈতিক মহলের অনুমান, রুবিওর এই সফরে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
হতে পারে।