মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত-সহ মোট ৬০টি দেশের পণ্যের উপর নতুন করে শুল্ক চাপিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ফেডেরাল রেজিস্টারে বিবৃতি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নতুন শুল্ক শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, যে সব দেশে আমেরিকার পণ্য রপ্তানি হবে, সেক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অথবা ১২.৫ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হবে। ১০ শতাংশ শুল্কের তালিকায় রয়েছে ভারত।
এই নতুন করকে ওয়াশিংটন ‘বলপূর্বক শ্রম’ শুল্ক হিসেবে উল্লেখ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বলপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির উপর প্রায় এক শতাব্দী ধরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সেই নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকার বহু বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ বলপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ করার নিয়ম যথাযথভাবে কার্যকর করতে পারেনি। গ্রিয়ারের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হলেও সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি। তাঁর দাবি, নতুন শুল্ক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে এবং বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের স্বারথ রক্ষায় সহায়ক হবে।
১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় থাকা দেশগুলির মধ্যে ভারতের পাশাপাশি রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আর্জেন্টিনা, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডন, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। অন্যদিকে, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইৎজারল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির ক্ষেত্রে আগে থেকেই ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত রাষ্ট্র শুল্ক’ কার্যকর করা হয়েছে। নতুন কর যুক্ত হওয়ায় এসব দেশের মোট শুল্কহার ১০ বা ১২.৫ শতাংশ পৌঁছবে। এছাড়া আরও ৩৮টি দেশ ১২.৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে চিন।
উল্লেখ্য, গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পারস্পরিক শুল্ক চাপিয়েছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে সেই শুল্ক বাতিল করে দেয়। এরপর ট্রাম্প ১৫০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করেন। যার মেয়াদ শুক্রবার শেষ হচ্ছে। সেই কারণেই একই দিন থেকে নতুন ‘বলপূর্বক শ্রম শুল্ক চালু করা হচ্ছে। মার্কিন সরকার জানিয়েছে, ১৯৪৭ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার অধীনে এই নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে সব ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। তেল, গ্যাস, সার এবং কয়েকটি খাদ্যপণ্যকে নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।