বুধবার দিল্লির রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়াল তৃণমূল কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সরাসরি বাকযুদ্ধকে কেন্দ্র করে। সমাজমাধ্যমে দুই পক্ষই একে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।
ঘটনার সূত্রপাত, বিবেচনাধীন ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়ার অভিযোগে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে নির্বাচন সদনে যায়। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে জানায়, তারা তৃণমূলকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, হুমকিমুক্ত এবং প্রলোভনমুক্ত। পাশাপাশি কমিশন দাবি করে, এ বার কোনওভাবেই ‘ছাপ্পা ভোট’ বা ‘বুথ জ্যামিং’-এর মতো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
এই পোস্ট ঘিরে বিতর্ক শুরু হতেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তৃণমূল। তাদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ আদৌ প্রত্যাশিত কি না। একই সঙ্গে কমিশনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়, “মুখোশ খুলে ফেলুন।”
এদিকে বৈঠক শেষে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্য ও রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেছেন এবং কার্যত বৈঠকটি অর্থহীন ছিল। তাঁর দাবি, কোনও গঠনমূলক আলোচনা হয়নি, বরং তাঁদের ‘গেস্ট লস্ট’ বলে বেরিয়ে যেতে বলা হয়।
অন্যদিকে কমিশন সরাসরি এই অভিযোগের জবাব না দিলেও জানায়, বৈঠকের সময় তৃণমূল প্রতিনিধিরা উত্তেজিত আচরণ করেন এবং উচ্চস্বরে কথা বলেন। কমিশনের দাবি, শিষ্টাচার বজায় রাখার জন্য সতর্কও করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য ভার্চুয়াল সংঘাত আরও জোরদার হয়েছে।