প্রান্তিক মানুষের কাছে দ্রুত বিচার পৌঁছতে সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপ

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

মীনাক্ষী ভট্টাচার্য

দিল্লি, ৩১ ডিসেম্বর– প্রান্তিক ও পিছিয়ে থাকা মানুষের কাছে দ্রুত বিচার পৌঁছে দিতে সুপ্রিম কোর্টের কর্মপদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, মামলা তালিকাভুক্তি এবং শুনানির পদ্ধতিতে একাধিক নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়।

এত দিন দ্রুত শুনানি, নতুন মামলা বা জামিন সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মামলা তালিকাভুক্ত করা হত। এ বার সেই ব্যবস্থায় আরও চারটি নতুন ‘অগ্রাধিকার ক্যাটেগরি’ যুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন ক্যাটেগরির মধ্যে রয়েছে— বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি ও অ্যাসিড হামলার শিকারদের মামলা, ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিকদের মামলা, দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা বা বিপিএল নাগরিকদের মামলা এবং লিগাল এইড বা আইনি সহায়তা সংক্রান্ত মামলা। এই চারটি শ্রেণির মামলা এখন থেকে ট্রান্সফার পিটিশন বা জনস্বার্থ মামলার আগেই শোনা হবে।


সুপ্রিম কোর্টের মতে, সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় মানুষের কাছে দ্রুত ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়াই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। এই নতুন নিয়ম কার্যকর করতে মামলা দায়েরের সময় সংশ্লিষ্ট ক্যাটেগরি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিতে হবে। আগে থেকে বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রেও কাগজপত্র আপডেট করতে হবে, যাতে সেগুলি নতুন অগ্রাধিকারের তালিকায় আনা যায়।

শুনানির পদ্ধতিতেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ বদল। এখন থেকে সুপ্রিম কোর্টে আর অনির্দিষ্ট সময় ধরে সওয়াল চলবে না। সিনিয়র অ্যাডভোকেট হোন বা সাধারণ আইনজীবী— সকলকেই শুনানির অন্তত এক দিন আগে জানাতে হবে, তাঁরা কত সময় সওয়াল করবেন। সেই অনুযায়ী আদালত শুনানির সময় নির্ধারণ করবে।

এ ছাড়াও শুনানির তিন দিন আগে মামলার বিষয় নিয়ে সর্বাধিক পাঁচ পাতার একটি লিখিত নোট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে বিচারপতিরা আগেই মামলার মূল বিষয় বুঝে নিতে পারবেন এবং শুনানি দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।

গত ২৪ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর কথা বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সেই লক্ষ্যেই দুটি প্রশাসনিক সার্কুলার জারি করে এই নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। শীর্ষ আদালতের আশা, এই পরিবর্তনের ফলে সময়ের সঠিক ব্যবহার হবে এবং সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের কাছে ন্যায়বিচার আরও দ্রুত পৌঁছবে।