সুপ্রিম কোর্ট থেকে ওবিসি মামলা প্রত্যাহার করল রাজ্য সরকার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি তালিকাভুক্তি সংক্রান্ত মামলায় বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। কলকাতা হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি বাতিল করেছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে পূর্বতন তৃণমূল সরকার সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা করেছিল, তা প্রত্যাহার করে নিল বর্তমান বিজেপি সরকার।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, ওবিসি সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করা হবে। সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে জানান, রাজ্য মন্ত্রীসভা আপিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনও তাদের পৃথক আপিল প্রত্যাহার করেছে বলে আদালতকে জানান কমিশনের আইনজীবী কুণাল চট্টোপাধ্যায়।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলায় অন্য কোনও ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ চাইলে তারা নিজেদের উদ্যোগে পৃথক মামলা চালিয়ে যেতে পারবে।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর ওবিসি তালিকাভুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি বাতিল করে। এর মধ্যে ৭৫টি ছিল মুসলিম সম্প্রদায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ধর্মের ভিত্তিতে মুসলিম সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, যা আইনসম্মত নয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই তৎকালীন তৃণমূল সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল।

ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার জানিয়ে দেয়, তারা ওই মামলা আর চালাবে না। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য বিধানসভায় দুটি নতুন বিল পাশ করানো হয়েছে। নতুন আইনে ২০১০ সালের আগের সমীক্ষার ভিত্তিতে স্বীকৃত ৬৬টি সম্প্রদায়কেই ওবিসি তালিকায় রাখা হয়েছে। ফলে ৭৭টি সম্প্রদায়ের ওবিসি স্বীকৃতি বাতিল হয়েছে।

ওবিসি সংক্রান্ত এই আইনি জট শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করেছিল বলে সোমবার জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারের ভুল নীতির কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে ছিল। নতুন আইন পাশ এবং সুপ্রিম কোর্ট থেকে মামলা প্রত্যাহারের ফলে সেই বাধা দূর হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যে ৬ হাজার প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৬ হাজার প্রার্থীর সাক্ষাৎকারও দ্রুত শেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির হস্তক্ষেপ থাকবে না।