কেরলে পুজো সেরে মালদ্বীপ সফরে প্রধানমন্ত্রী

গুরুভায়ুর মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Photo: IANS)

কুর্সিতে বসার পর মালদ্বীপ নিয়ে বিদেশ সফর শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে মােদির এটাই প্রথম বিদেশ সফর। দু’দিনের মালদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কা সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি কেরলের গুরুভায়ুর মন্দিরে পুজো দিতে যান। পুজোপর্ব শেষ করে শনিবার মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

গুজরাতে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কেরলের শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরে যান নরেন্দ্র মােদি। লােকসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর ফের মন্দির দর্শনে এলেন তিনি। মন্দিরে পৌছে সুগন্ধী, ঘি, পদ্মফুল এবং বিশেষ রকমের লাল রঙের কলা দিয়ে গুরুভায়ুর মন্দিরে ঘন্টা খানেক ‘তুলাভরম’ উপাচার সারেন মােদি। পুজোর বিধি মেনে প্রধানমন্ত্রীকে দাঁড়িপাল্লার একদিকে বসিয়ে অন্যদিকে স্তূপাকৃতি পদ্ম ফুল রাখা হয়। মন্দিরের প্রথা মেনে এভাবে প্রধানমন্ত্রীর ওজন মাপা হয়।

শুক্রবার রাতে দিল্লি থেকে ত্রিচূড়ে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি। সেখানে তিনি সরকারি গেস্ট হাউসে রাত্রিবাস করেন। সকালে কোচির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরে কোচি থেকে নৌবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে করে সকাল ৯.৫০ মিনিট নাগাদ তিনি গুরুভায়ুর মন্দিরের কাছে শ্রীকৃষ্ণঃ কলেজ গ্রাউন্ডে নামেন। সেখান থেকে যান কেরলের ৫ হাজার বছরের পুরনাে গুরুভায়ুর মন্দিরে।


২০০৮ সালে গুজরাতে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর নরেন্দ্র মােদি কেরলের প্রাচীন এই কৃষ্ণ মন্দিরে এসে পুজো দিয়েছিলেন। পূজার্চনা পর্ব মেটার পর প্রধানমন্ত্রী যান কেরল বিজেপির রাজ্য কমিটি আয়ােজিত ‘অভিনন্দন সভা’-র সমাবেশে। নির্বাচনে জয়ের পর প্রথম জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে কোচিতে ফিরে আসেন। তারপর রওনা দেন অন্ধ্রপ্রদেশে, সেখানে তিনি তিরুমালায় ভেঙ্কটেশ্বরের মন্দিরে পুজো দেন। এখান থেকেই মালদ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

মালদ্বীপ থেকে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি। শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর এই প্রথম প্রতিবেশি দেশের কোনও প্রতিনিধি সেখানে যাচ্ছেন। সন্ত্রাসে আক্রান্ত শ্রীলঙ্কাকে সব রকম সাহায্য দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এদিন টুইটে লিখেছেন, ‘সরকারের ‘প্রতিবেশীদের অগ্রাধিকার’ নীতিকে গুরুত্ব দিতেই আমার বিদেশ সফর। আমাদের সামুদ্রিক প্রতিবেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করে তুলতে সাহায্য করবে’।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার লক্ষ্যে শনিবার মালদ্বীপে পৌছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি। দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘Rule of nishan lzzuddeen’ তাঁকে সম্মানিত করা হয়। দ্বীপরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মহম্মদ সােলি মােদিকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেন।

বিশেষ সম্মান প্রাপ্তির পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান, ‘এই সম্মান শুধু তাঁকে দেওয়া হয়নি। ভারত ও মালদ্বীপের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে এই সম্মানের মধ্য দিয়ে। মালদ্বীপের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেয় ভারত। মালদ্বীপের জন্য সব রকম সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারত। আমরা চাই দুই দেশের সম্পর্ক চিরস্থায়ী হােক’।

প্রধানমন্ত্রী সেদেশে পা রাখার সঙ্গে গান স্যালুট দেওয়া হয়। মালে শহর ছেয়ে গেছে ভারত ও মালদ্বীপের পতাকায়, সেই সঙ্গে রয়েছে দুই দেশের রাষ্ট্রনায়কের ছবি দিয়ে প্ল্যাকার্ড। এখান থেকে প্রধানমন্ত্রী যাবেন শ্রীলঙ্কায়।

সূত্রের খবর, দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে আলােচনা হবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে। সেই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বেশ কয়েকটি বিষয়ে মৌ চুক্তির কথা শােনা যাচ্ছে। মালদ্বীপ সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদির ভাষণ রাখবেন।