বিজয়া দশমীর দিন সারা দেশে ‘দশেরা’ অনুষ্ঠিত হয়। পুরাণ মতে এদিনই রাম রাবণকে বধ করেছিলেন। সেই কারণে বিজয়া দশমীতে রাবণের কুশপুতুল পোড়ানোর মাধ্যমে ‘দশেরা’ পালিত হয়। তবে এমনও এক গ্রাম আছে যেখানে গ্রামবাসীরা ‘রাবণ দহন’-এর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এই গ্রামে প্রতি দিনই পাঠ করা হয় ‘রাবণ চালিশা’। শুধু তাই নয়, গ্রামের নামও লঙ্কেশের নামে।
মধ্যপ্রদেশে আছে রাবণের নামে গ্রাম। ভোপাল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি গ্রামের নাম ‘রাবণ’। তবে কী ভাবে রাবণের নামে গ্রামের নাম হল, তা জানা নেই গ্রামবাসীদের। গ্রামবাসীদের কাছে রাবণ কোনও অসুর বা রাক্ষস নন। রাবণ তাঁদের কাছে একজন পণ্ডিত। রাবণকে নিজেদের এবং গ্রামের রক্ষাকর্তা বলে মনে করেন তাঁরা।
দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা এই গ্রাম। গ্রামের বাসিন্দা প্রতি দিন রাবণের নামে জয়ধ্বনি দেন। এই গ্রাম মুখরিত হয় ‘জয় লঙ্কেশ জ্ঞান গুণসাগর, অসুর রাজ সব লোক উজাগর’ মন্ত্রে। তাঁদের কাছে রাবণ কোনও অসুর নন। রাবণ তাঁদের কাছে দেবতা। সেখানে প্রতি দিনই পাঠ হয় ‘রাবণ চালিশা’।
রাবণ গ্রাম অবস্থিত মধ্যপ্রদেশের বিদিশার নেতারান তহসিলে। এই গ্রামে বাস করেন ৩৭২টি পরিবার। তাঁদের বেশির ভাগই কন্যাকুব্জ ব্রাহ্মণ। গ্রামে আছে রাবণের মূর্তিও। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো সেই মূর্তি। জনশ্রুতি অনুসারে, ওই গ্রামের কাছেই একটি পাহাড়ে বাস করতেন বুদেকা নামের এক রাক্ষস।
রাবণের নির্দেশে বুদেকা নামে সেই রাক্ষস তাঁর মূর্তি করে। গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে রাবণের মন্দির জ্ঞান এবং পবিত্রতার প্রতীক। রাবণের নামে গ্রামের নাম কবে এবং কেন হয়েছিল তা জানা নেই বাসিন্দাদের। তবে এই নাম নিয়ে গর্ব আছে গ্রামবাসীদের। তাঁরা কখনই এই গ্রামের নাম বদল করতে চান না।