দাবদাহে জ্বলছে দেশ, সতর্ক ও মানবিক থাকার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

উত্তর থেকে দক্ষিণ, মধ্য ভারত থেকে রাজধানী দিল্লি – ভয়াবহ দাবদাহে কার্যত হাঁসফাঁস পরিস্থিতি গোটা দেশে। একাধিক রাজ্যে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে, জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা। মৌসম ভবনের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৪ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ তাপপ্রবাহ খুব কমই দেখা গিয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আগামী কয়েকদিনেও এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে স্বস্তির সম্ভাবনা নেই। এই দাবদাহের হাত থেকে বাঁচতে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ একাধিক পোস্ট করে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি মানবিক হওয়ারও আবেদন জানান। তাঁর কথায়, ‘এই তীব্র দাবদাহ সকলের জন্যই অত্যন্ত কষ্টকর। তাই যতটা সম্ভব সতর্ক থাকুন।’

প্রধানমন্ত্রী লেখেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়েছে এবং তার জেরে নানারকম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে সকলকে বেশি করে জল খাওয়ার, বাইরে বেরোলে সঙ্গে জলের বোতল রাখার এবং অন্যদেরও জল দিয়ে সাহায্য করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মোদীর কথায়, ‘এই কঠিন সময়ে ছোট ছোট সহৃদয় আচরণও অনেক বড় ভূমিকা নিতে পারে।’


তাপপ্রবাহের কারণে শরীরে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো  উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছায়ায় ঘেরা, ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। জল বা ওআরএস খাওয়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শিশু ও প্রবীণ নাগরিক এবং যাঁরা রোদে বাইরে কাজ করেন, তাঁদের জন্য এই গরম আরও বিপজ্জনক বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং নিয়মিত জলপান করার কথা মনে করিয়ে দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

শুধু মানুষ নয়, এই দাবদাহে পশুপাখিদের প্রতিও সংবেদনশীল হওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অনুরোধ, বাড়ি, বারান্দা, ছাদ, দোকান বা অফিসের বাইরে একবাটি জল রাখা হোক, যাতে তৃষ্ণার্ত পাখি ও পশুরা কিছুটা স্বস্তি পায়। ইতিমধ্যেই দেশের একাধিক রাজ্যে ‘হিট অ্যাকশন প্ল্যান’ চালু করেছে প্রশাসন। বিভিন্ন জায়গায় ওআরএস বিতরণ, কুলিং সেন্টার তৈরি এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রচার শুরু হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ শুধু গরমেই নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামছাড়া দামের আঁচেও নাজেহাল। 

মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি ও মধ্যপ্রদেশে আগামী কয়েক দিন তীব্র দাবদাহের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের বান্দা এবং মহারাষ্ট্রের ব্রহ্মপুরীতে পারদ পৌঁছেছে ৪৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়াবিদদের মতে, স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৭ ডিগ্রি বেশি থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। প্রচন্ড গরমে তেলেঙ্গানায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, দেশজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদাও রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে সতর্ক ও মানবিক থাকার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।