৫ জানুয়ারি থেকে ‘জি রামজি’ নিয়ে আন্দোলনে কংগ্রেস

কেন্দ্রীয় সরকারের আনা ‘জিরামজি’ আইনকে ঘিরে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস। আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে এই আন্দোলন শুরু হবে বলে শনিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সাংসদ শশী থারুর, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া, হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখ্যু-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। বৈঠকে খাড়গে স্পষ্টভাবে জানান, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআরের আবহে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন যেসব রাজ্যে ভোট রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, অসম-সহ একাধিক রাজ্যে দলকে বাড়তি সতর্কতা ও নজর দিতে বলেছেন খাড়গে। একই সঙ্গে ‘জিরামজি’ আইনের বিরোধিতায় কীভাবে জনমত গড়ে তোলা হবে, সেই কৌশলও নির্ধারণ করা হয়।

কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, খাড়গে দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলনে নামতে হবে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অতীতে জিএসটি সংস্কার কিংবা রাফাল ইস্যুতে আন্দোলন শুরু করলেও কংগ্রেস তা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে পারেনি। ফলে ‘জিরামজি’ বিরোধী আন্দোলন কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এদিন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী ‘জিরামজি’ আইনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউপিএ আমলে চালু হওয়া মনরেগা প্রকল্প বাতিল করে কেন্দ্র নতুন আইন এনেছে। যেখানে আগে পুরো অর্থ কেন্দ্র দিত, এখন রাজ্যের উপর আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে। পাশাপাশি কোন রাজ্যে কী কাজ হবে, তা কেন্দ্র ঠিক করবে—এটিকে তিনি স্বৈরাচারী মনোভাব বলেও আখ্যা দেন।

খাড়গেও বলেন, গান্ধীজির নাম বাদ দিয়ে ইতিহাস বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কংগ্রেস কোনওভাবেই মেনে নেবে না। বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এই প্রথম ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বসায় কংগ্রেস। ফলে ‘জিরামজি’ আইন মোকাবিলার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনের কৌশলও এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে শশী থারুরের উপস্থিতি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়ায়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছে বলে আলোচনা চলছিল। তবে এই বিষয়ে শশী থারুর বা কংগ্রেস নেতৃত্ব কেউই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।